জিপিএ-৫ পেয়েছে দরিদ্র ঘরের মেয়ে বৈশাখী

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ একদিকে দারিদ্র পরিবারে জন্ম অপরদিকে জন্ম থেকেই দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বৈশাখীর। অর্থনৈতিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, কোন বাধায় আটকাতে পারেনি তাকে। অধ্যাবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলে এবার এইচএসসিতে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোছাঃ জান্নাতুন নাহার বৈশাখী। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলা ও অর্থনীতি বাদে প্রত্যেকটি বিষয়ে এ প্লাস পেয়েছে। সে এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র ৫নম্বরের জন্য জিপিএ ৫ পেয়েছিল না। কিন্ত এবার তার আশা পূরণ হয়েছে। দরিদ্র্যতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার এই ভালো ফলাফলে বাধা হয়ে উঠতে পারেনি। কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার পল্লী অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বিজেএম ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মোছাঃ জান্নাতুন নাহার বৈশাখী। একমাত্র সেই উক্ত কলেজ  থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। কুষ্টিয়া জেলার  ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের দরিদ্র কাঠ মিস্ত্রি সাইদুর রহমান ও গৃহবধূ বিউটি খাতুনের দ¤পতির ৩ মেয়ের মধ্যে বড় মোছাঃ জান্নতুুন নাহার বৈশাখী। তামান্নার খুব ইচ্ছা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে ভবিষ্যতে সরকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার। কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব হবে, এই চিন্তায় হতাশ হয়ে পড়ে মেধাবী মেয়েটি। কারণ তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার চেয়ে তার বাবার আর্থিক দুরবস্থার বাধা অনেক বড়। ভালো ফল সম্পর্কে বৈশাখী জানায়, “নিয়মিত ক্লাস করতাম এবং মা-বাবার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় নিয়মিত পড়ালেখা করেছি। আর্থিক কারণে নিয়মিত প্রাইভেটও পড়তে পারিনি। শিক্ষকদের সহযোগিতার কারণে আমার এই ভালো ফলাফল।” কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আসলাম উদ্দীন বলেন, বৈশাখীর হাতের লেখা খুব সুন্দর। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও অদম্য ইচ্ছা শক্তিতে সে ভালো ফল করে তার বাবা-মা ও কলেজের মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমরা তার জন্য গর্বিত। মোছাঃ জান্নাতুন নাহার বৈশাখী সকলের নিকট সহযোগিতা ও দোয়া প্রার্থী।

আরো খবর...