জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষে লাভবান কৃষক

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি)-এর জিংক সমৃদ্ধ নতুন ধানের জাত ব্রি ধান-৬২ চাষে মাত্র একশো দিনে ফসল ঘরে তুলেছে নাটোরের সদর, লালপুর, সিংড়া, গুরুদাসপুর ও বাগাতীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা। জমির উর্বরতা ঠিক রেখে বছর প্রতি তিনবার ফসল চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন করছে তারা। গবেষকদের দাবি, জিংক সমৃদ্ধ ধান মানুষের বিশেষ করে শিশুদের রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি  মেধা ও শারীরিক বিকাশের বিশেষ ভূমিকা রাখবে। তাই পর্যায়ক্রমে দেশের মাটি ও আবহাওয়ায় সহিষ্ণু উচ্চ ফলনশীল অন্যান্য ধানেও জিংক সংযুক্তির মাধ্যমে সকল ধানকেই জিংক সমৃদ্ধ করা যাবে। এতে চাষিরা যেমন উপকৃত হবে তেমন মেধাবী জাতি গঠনে যথেষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ব্রি ধান-৬২-এর বিজ্ঞান ভিত্তিক চাষে কৃষকদের সহযোগিতা করতে প্রদর্শনী করা হচ্ছে। লালপুর এলাকার গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা চলতি মৌসুমে তারা স্বল্প মেয়াদী এবং জিংক সমৃদ্ধ আমন ব্রি ধান-৬২ চাষ শুরু করে। খবর নিয়ে জানা গেছে, একশো দিনের মধ্যে ফসল ঘরে উঠাতে পেরেছে তারা। যা কিনা প্রচলিত ধানের জাত থেকে ২৫-৩০ দিন কম সময় লেগেছে। কৃষকরা আরও বলেন, ব্রি ধান-৬২ চাষের জন্য অতিরিক্ত কোন  সেচ লাগে না। ধানের বিভিন্ন ধরনের পোকা যেমন পামারী পোকা, লেদা পোকা ইত্যাদির তেমন আক্রমণ নেই বললেই চলে। প্রদর্শনী প্লটের ধানচাষী আবুল  হোসেন, অজিজুল হক, সাইফুদ্দিন, আব্দুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, অতীতে প্রচলিত জাতের ধান চাষ করার সময় প্রায়ই বন্যায় তলিয়ে যেতো। কিন্তু বর্তমানে নতুন জাতগুলো চাষাবাদ করে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ফসল ঘরে নিতে পারা যাচ্ছে। এ বছর একশো দিনের মধ্যে ফসল ঘরে উঠাতে পেরেছি। কিন্তু অন্যান্য জাতের ধান চাষ করলে আরও ২০-৩০ দিন বেশি সময় লেগে যেত। হারভেস্ট প্লাস ও আভা ডেভলপমেন্ট সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত প্রকল্পের  প্রোগ্রাম-কো-অর্ডিনেটর সাইফুল ইসলাম রবি বলেন, ‘আমরা এ মৌসুমে নাটোরের সদর, লালপুর, সিংড়া, গুরুদাসপুর ও বাগাতীপাড়া উপজেলার এক হাজার চারশো কৃষকদের মাঝে প্রত্যেককে বিনামূল্যে বীজ সহায়তা প্রদান করেছিলাম। প্রদর্শনী প্লটে মাত্র একশো দিনের মধ্যে চাষাবাদ শেষে কৃষকরা আশানুরূপ ফলাফল  পেয়েছে। বিঘাপ্রতি ১৮-১৯মন ধান ফলন হওয়ায় কৃষকেরা বেশ খুশী। বর্তমানে জিংক সমৃদ্ধ ধান চাষের মেয়াদকাল সম্পর্কে  জেনে ও ফলন  দেখে অনেকে চাষীরাই এ ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন’।

আরো খবর...