জায়গা-জমি দখলের অভিযোগ জমা পড়ছে প্রতিদিন

কুষ্টিয়ায় সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াত করে জায়গা জমি দখলের ঘটনার পর প্রতিদিন এমন অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। কুষ্টিয়া শহর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব অভিযোগ এসেছে।

একটি সূত্র বলছে, এসব জায়গা জমি দখলে জেলার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। সবগুলো অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কুষ্টিয়া শহরের বাসিন্দা এমএমএ ওয়াদুদ পরিবারের জমি কেনা-বেচা ও দখল চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেন। ইতোমধ্যে এমামলায় এজাহারভুক্ত ৬জন আসামী এবং তদন্তেপ্রাপ্ত এক আসামীসহ ৭জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে তিনজন আসামী আদালতে তাদের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে।  এৎবানবন্দীতে রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাসহ বিভিন্নজনের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটি সংঘবব্ধ জালিয়াত চক্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি করে এঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে জমি-জালিয়াতি ঘটনার বিষয়টির ব্যাপারে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাংসদ ও আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

তিনি গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেনÑএ ব্যাপারে একটি কমিটিও গঠন করার। কমিটির কাছে জেলার যেকোন বাসিন্দা যাদের জমি অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছে বা দলিল করে নিয়েছে সে ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করে।

তিন সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটির সদস্যরা হলেন, জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত ও সরকারি কৌশুলি অনুপ কুমার নন্দী।

কমিটি সূত্র জানায়, গত সাতদিনে অন্তত ৫০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এছাড়া একই পরিমাণে ছোট ছোট চিরকুট জমা পড়েছে। তাতে বলা হয়েছে কুষ্টিয়া শহর ছাড়াও জেলার বিভিন্ন জায়গায় সরকারি-বেসরকারি বেশ কিছু জায়গা-জমি জোর জবরদোস্ত করে দখল করে নেওয়া হয়েছে। ভয়ে প্রতিবাদ করতে না পেরে অনেকে এলাকা ছেড়ে চলেও গেছে। এসব জবর দখলে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, সবগুলো অভিযোগ খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি জবর দখল  বা জালিয়াতি করে জমি নেওয়া হয়েছে তাহলে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, কোন অভিযোগই অবহেলা করা হচ্ছে না। সদর আসনের সাংসদ কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। জমি দখলবাজদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে কমিটির সদস্যদের একটি প্রাথমিক সভা হয়েছে। জমা পড়া অভিযোগের ব্যাপারে সাংসদকে জানানোও হয়েছে।

আরো খবর...