জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান জিএম কাদের

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন জিএম কাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন দায়িত্ব নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে এ মুহূর্তে আমার প্রথম কাজ বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো। তিনি সারা দেশের নেতাকর্মীদের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভেদ নেই বলে এ সময় জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যানকে পরিচয় করিয়ে দেন পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি বলেন, জিএম কাদের এখন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নন, তিনি পার্টির চেয়ারম্যান। পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। জিএম কাদের এতদিন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো- চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। পার্টির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুর আগে তাকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন। গত কয়েক মাস ধরেই এ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন জিএম কাদের। প্রসঙ্গত রোববার সকাল পৌনে ৮টায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি রক্তে সংক্রমণসহ লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন। রোববার বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদে দ্বিতীয় এবং বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে মঙ্গলবার তাকে পল্লী নিবাসে সমাহিত করা হয়। এরশাদের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে এলেন তার ছোট ভাই সাবেক মন্ত্রী জিএম কাদের। জাতীয় পার্টিও নতুন চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বন্দ্ব বা বিভেদ নেই। জাতীয় পার্টিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ আছেন। তিনি বলেন, পল্লী বন্ধুর শোক শক্তিতে পরিণত করে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে আরও শক্তিশালী করব। আগামী দিনে শক্তিশালী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি আরও এগিয়ে যাবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রংপুর-৩ শূন্য আসনে মনোনয়ন দিতে গঠনতন্ত্র মোতাবেক দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে। আলাপ আলোচনা করেই প্রার্থী ঠিক করা হবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পরে তা স্পিকারকে জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, ২৬ জুন থেকে পার্টি চেয়ারম্যান পল্লী বন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ অসুস্থ থাকায় আমরা দলীয় কোনো কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারিনি। দলকে শক্তিশালী করতে অচিরেই সারাদেশে সাংগঠনিক টিম কাজ শুরু করবে। পল্লী নিবাসের এরশাদের দাফনের বিষয়ে তিনি বলেন, পল্লী বন্ধুকে দাফন করার ব্যাপারে দু’টি প্রস্তাব ছিলো- ঢাকার বনানীতে সেনা কবরস্থান এবং রংপুরে তার নিজ বাসভবন পল্লী নিবাসে। শেষ পর্যন্ত রংপুরবাসীর ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা পারিবারিকভাবে রংপুরেই তাঁকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সেখানে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় এবং সামরিক মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়েছে। আমরা অচিরেই পল্লীবন্ধুর স্মরণে একটি স্মরণ সভার আয়োজন করবো। জিএম কাদের বলেন, আজ আমি মিডিয়ার সব বন্ধুসহ যারা পল্লী বন্ধু এরশাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন, সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন, যারা তার জানাজায় শরিক হয়েছেন, যারা তার শবযাত্রায় শামিল হয়েছেন, সারাদেশের মানুষ যারা তার জন্য দোয়া করেছেন, যারা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন, তারাসহ গোটা দেশবাসীর প্রতি আমি, আমাদের পার্টি এবং আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের মাধ্যমে গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যই আজকের সংবাদ ব্রিফিং। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি। কৃতজ্ঞতা জানাই- আমাদের গর্বিত তিন বাহিনীর সব সদস্যদের প্রতি, যারা পল্লীবন্ধু এরশাদকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই- বাংলাদেশে অবস্থানরত সব কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের প্রতি যারা পল্লীবন্ধু এরশাদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের সুদক্ষ চিকিৎসকদের প্রতি- যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে পল্লীবন্ধু এরশাদকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। আমি আরও কৃতজ্ঞতা জানাই- যেসব স্টাফ পল্লীবন্ধুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে সেবা দিয়েছেন। গতকাল আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত পল্লীবন্ধুর কুলখানিতে যেসব বরেণ্য ব্যক্তিত্ব এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশ নিয়েছেন তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। এর আগে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, অসুস্থ হবার আগে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সাংগঠনিক নির্দেশে গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপিকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং পল্লীবন্ধুর অবর্তমানে গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপিকে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই নির্দেশনা মোতাবেক গোলাম মোহাম্মদ কাদের পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সুনীল শুভ রায়, এস.এম. ফয়সাল চিশতী, মো. আজম খান, এটিইউ তাজ রহমান, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, পার্টির নেতা শফিকুল ইসলাম সেন্টু, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, ড. নুুরুল আজহার, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, জহিরুল আলম রুবেল, আহসান আদেলুর রহমান আদেল এমপি, যুগ্ম মহাসচিব- গোলাম মোহাম্মদ রাজু, হাসিবুল ইসলাম জয়, আমির উদ্দিন আহমেদ ডালু, সুলতান আহমেদ সেলিম, শাহজাহান মানসুর, রাজ্জাক খান, এনাম জয়নাল আবেদীন, ফজলে এলাহী সোহাগ, সুজন দে, আব্দুস সাত্তার, বেলাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন তোতা, জাহাঙ্গীর আলম।

আরো খবর...