জাতির জনককে হারিয়ে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল জনগণ

‘ইয়াসিন-মাহমুদা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’র নির্মাণ কাজের উদ্বোধনকালে ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ

নিজ সংবাদ ॥ ‘ইয়াসিন-মাহমুদা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’র নির্মান কাজের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। গতকাল দুুপুরে কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা: ইফতেখার মাহমুদ নিজ পিত্রালয় মিরপুর উপজেলার সাহেবনগর গ্রামে এই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত থেকে এলাকাবাসীর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফ উদ্দিন টিপু, হায়দার আলী মল্লিক, তানজিলুর রহমান, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি শরিফুল আলম মঞ্জু, গোলাম হায়দার, শাহজামাল মল্লিক, মিজানুর রহমান মল্লিক, মওদুদ আহমেদ রাজিব প্রমুখ। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ বলেন- আগষ্ট মাস শোকের মাস। পাকিস্তানী পরাজিত শক্তির নীল নকঁশায় জাতির জনককে পরিবারসহ এই মাসের ১৫তারিখে হত্যা করেছিল। যা ইতিহাসের  হৃদয় বিদারক ঘটনা ছিল। বাঙ্গালী জাতি হিসেবে আমরা সকলেই জাতির জনককে হারিয়ে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিলাম। তিনি আরো বলেন- বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশে তাঁর অস¤পূর্ণ স্বপ্ন পুরনে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশ আজ উন্নয়নের শিখরে পৌছে গেছে। দেশের এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে ধরে

রাখতে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি বলেন- বৈশ্বিক করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহনে অনেকটা সফলতার পরিচয় দিয়েছে। করোনাকালীন দেশের মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে সরকারের নেয়া সকল পদক্ষেপ ইতিবাচক হিসেবে বহিঃবিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন- করোনা এক দিন আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেবে তার পর আমরা আবারো পুরোদমে অর্থনৈতিক শক্তির গতিবেগ সচল করতে পারবো- ইনশাআল্লাহ। ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ বলেন, এলাকার উন্নয়নে আমি সম্পৃক্ত হতে চাই। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের নিজস্ব জমিতে পিতা মাতার নামানুসারে ‘ইয়াসিন-মাহমুদা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র‘র নির্মান কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। তিনি বলেন, এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখবে বলে আশা রাখি। তিনি বলেন,আমি বর্তমানে অবসরে আছি আমার অফুরন্ত সময় রয়েছে। আল্লাহপাক আমাকে এবং আমার পরিবারকে অনেক কিছু দিয়েছেন বাকী সময়টা আমি মানুষর কল্যানে কাজ করতে চাই। ইতিমধ্যে এলাকার মানুষের মাঝে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, দুস্থ্যদের সহায়তা প্রদান এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহী করে তুলতে তাদের সম্বর্ধনা প্রদান ও আর্থিক সহযোগিতা করে আসছি। আগামীতে আমাদের এই কার্যক্রম আরো বড় পরিসরে শুরু করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব মানুষ হিসেবে আমাদের সমাজের জন্য অনেক কিছু করনীয় রয়েছে। আর আমরা এইকাজগুলো থেকে বিরত থাকতে পারি না। একদিন আমাদের সবাইকে সৃষ্টিকর্তার নিকট জবাবদিহি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার উপর জোর দিয়েছে। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষ সত্যিকারের প্রশিক্ষিত কর্মী হিসেবে দেশ ও দেশের বাইরে উপযুক্ত আয়ের ব্যবস্থা করে জীবন নির্বাহ করতে পারেন। সেই  লক্ষ্যে এলাকার সন্তানদের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি যা সকলের জন্য কল্যাণকর হবে। পরে তিনি মাটি কেটে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় মহান আল্লার দরবারে সহযোগিতা এবং রহমত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন সাহেবনগর মসজিদের ইমাম মাওলানা আলামীন। পরে প্রফেসর ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ এলাকার ২শতাধিক মানুষের মাঝে বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। তিনি রোগীদের নিকট থেকে বিভিন্ন সমস্যাদি শোনেন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র দেন।

আরো খবর...