জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৭০ সাল নাগাদ বিশ্বের ৩০০  কোটি মানুষকে ‘প্রায় বসবাস-অযোগ্য’ চরম উষ্ণ তাপমাত্রার মধ্যে থাকতে হবে- এমন খবর যখন সামনে আসছে, তখন বিষয়টি কতটা উদ্বেগের তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একই সঙ্গে এটাও প্রকাশিত খবরে জানা গেল, যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ উলে¬খযোগ্যহারে কমানো না যায়, তাহলে পৃথিবীর  বেশিরভাগ মানুষকে গড়ে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়েও  বেশি তাপমাত্রায় বসবাস করতে হবে। মূলত নতুন এক সমীক্ষার ফলাফলে এ পরিস্থিতির কথা উলে¬খ করেছেন গবেষকরা। যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের গে¬াবাল সিস্টেমস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ টিম  লেন্টন চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিজ্ঞানীদের নিয়ে এই সমীক্ষা চালান। বিবিসি অনলাইনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিম  লেন্টন বলেছেন, এই গবেষণায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও বেশি মানবসভ্যতার ওপর প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে। আমরা মনে করি, যত দ্রুত সম্ভব জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সংশি¬ষ্ট বিষয়গুলোকে আমলে নিয়ে বিশ্ব  নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্টদের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে মনোযোগী হতে হবে। প্রসঙ্গত আমরা বলতে চাই, এর আগে জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে যে পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা আছে তাতে বাংলাদেশের ঝুঁকির বিষয়ও আলোচনায় এসেছে- ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বিষয়টিকে সামনে রেখে দেশের সংশ্লি¬ষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ অব্যাহত রাখা জরুরি। উল্লে¬খ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে এমনটিও জানা যাচ্ছে, গবেষকরা জাতিসংঘের জনসংখ্যা অনুমতি ও প্রত্যাশিত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণায়ন পরিস্থিতির তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করেছেন। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনেও দেখা গেছে, বিভিন্ন দেশ প্যারিস জলবায়ু চুক্তি মেনে চলার পরও বিশ্বের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। আমরা মনে করি, জলবায়ুর পরিবর্তনের ঝুঁকির বিষয়টি বাবার বলা হলেও যেন এটি উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। আমলে নেওয়া দরকার, সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বেশিরভাগ মানুষ এমন স্থানে বাস করে,  যেখানে গড় তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অল্প কিছু মানুষ গড়ে ২০ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাস করে। এ প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার, হাজার বছর ধরে এই জলবায়ু পরিস্থিতিতে বসবাস করে আসছে মানুষ। কিন্তু  বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে  গেলে বিপুলসংখ্যক মানুষ এই ‘অনুকূল জলবায়ুর’ সীমার বাইরে বলে বিবেচিত তাপমাত্রায় চলে যাবে। এমন বিষয় আলোচনায় এসেছে, সমুদ্রের তুলনায় ভূমি উষ্ণ হয় দ্রুত এবং ভূমির উষ্ণ হওয়ার হার ৩ ডিগ্রি বেশি। উষ্ণ এলাকাগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, বিশেষ করে আফ্রিকার সাবসাহারান অঞ্চলে। ফলে গড়ে ওই এলাকার সব মানুষকে উষ্ণ আবহাওয়ায় বাস করতে হবে। এতে আরও বেশি জনগোষ্ঠী উষ্ণ আবহাওয়ায় চলে যাবে। মানুষকে তখন গড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাস করতে হবে। ওই সময়  বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়াবে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই বিরূপ প্রভাব যে অঞ্চলগুলোতে সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, এর মধ্যে উত্তর অস্ট্রেলিয়া, ভারত, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশ। আমরা বলতে চাই, সংশি¬ষ্টদের এটা বিবেচনায় নেওয়া দরকার, সমীক্ষায় এমন উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে- সেসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর এই বিরূপ প্রভাব পড়বে, এই তাপমাত্রায় তারা আশ্রয় খুঁজে পাবে না। সর্বোপরি বলতে চাই, যদি এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে তার ভয়াবহতা কীরূপ হতে পারে, সেই আশঙ্কাকে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণ করে সতর্ক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যদিও এই গবেষণায় ধনীদের বিষয়টি নিয়ে ভাবা হয়নি। কারণ তারা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ভবনে বাস করতে পারবেন। কিন্তু এমন উদ্বেগের বিষয় উঠে এসেছে- জলবায়ুর এই পরিস্থিতি  থেকে যারা নিজেদের রক্ষা করতে পারবেন না, সেই মানুষের কী হবে! আমরা উলে¬খ করতে চাই, এই গবেষণার মূল বার্তা হলো জলবায়ু পরিবর্তনকে সীমাবদ্ধ করে যত বেশি সম্ভব মানুষকে ‘অনুকূল জলবায়ু’ সীমার বাইরে চলে যাওয়া থেকে  ঠেকানো- ফলে এটি করতে করণীয় নির্ধারণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।

 

আরো খবর...