জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় প্রয়োজন বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের সকল দেশের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক উষ্ণতা ইতোমধ্যে এক ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়ে গেছে। বর্তমান হারে কার্বন নির্গমন হতে থাকলে এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। অথচ এক ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির ভয়ানক পরিণতি এখন পৃথিবী দেখছে। এই তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে পৃথিবীর অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। এই অবস্থায় পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে সব দেশের সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাই আমরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বের সকল দেশের ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ চাই।’ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের নিষ্পাপ শিকার এ কথা উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে বাংলাদেশের মাথাপিছু কার্বন নি:সরণের হার মাত্র দশমিক ৫ টন। আর উন্নত দেশগুলোর মাথাপিছু গড় কার্বন নিৎসরণ ৬ টন। তথ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, দায়ী না হয়েও বাংলাদেশ সীমিত সম্পদ নিয়ে নিজ উদ্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সারাদেশে ৫০ লাখেরও বেশি সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। ড. হাছান বুধবার রাতে স্পেনের মাদ্রিদে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ‘কনফারেন্স অব পার্টিস’র (কপ) ২৫তম সম্মেলনে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক পার্শ্ব সম্মেলনে সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ, কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে এ পার্শ্ব সম্মেলনের আয়োজন করে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়, ওই সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন দৃশ্যমান। তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবনাক্ততা বেড়ে চলেছে। দেশের কোন কোন অঞ্চলে মরুকরণ দেখা দিয়েছে। সম্ভাবনার চেয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কম হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পানির প্রধান উৎস হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক হুমকির মুখে। পরিবেশবিদ ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ক্ষুদ্রদ্বীপ দেশগুলোও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে। এসব দেশে মরুকরণেরও সুযোগ নেই। তাছাড়া এসব দেশের জনসংখ্যা কম। কিন্তু বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলেই ৪ কোটি ২০ লাখ মানুষের বসবাস এ কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন,এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিধ্বংসী প্রভাবে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য জাফর আলম ও রেজাউল করিম, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস ও পরিবেশ সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী । অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূরুল কাদের। বাংলাদেশে অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তাকারি দেশগুলোর মধ্যে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা তাদের কার্যক্রম এ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদ সত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই অগ্রপথিক। তিনি বলেন, ‘আমরা সবার আগে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ‘এ্যাকশন প্ল্যান’  তৈরি করেছি’। নিজস্ব বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থে ৭২০টি অভিযোজন প্রকল্প গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্রদেশ। কিন্তু জনসংখ্যা বেশি। তিনি বলেন,‘আমাদের অগ্রাধিকার খাত হচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে আমরা অগ্রাধিকার খাতের দিকে নজর দিতে পারছি না। অথচ উন্নত দেশের ভোগ-বিলাসের কারণে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম বিপদাপন্ন দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর অনেক প্রাণিই হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন,‘ডাইনোসারের মতো প্রাণীও বিলীন হয়ে গেছে পৃথিবী থেকে। কিন্তু আমরা টিকে থাকতে চাই। আমাদের টিকে থাকার জন্য অনেক দেশই তাদের প্রতিশ্র“তি অনুযায়ি কাজ করছে না। আবার কোন কোন দেশ পৃথিবীর রক্ষাকবচ হিসাবে পরিচিত ‘প্যারিস-চুক্তি’ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এটা আমাদের জন্য হতাশাজনক।’

আরো খবর...