জমি দখলের সংবাদ সংগ্রহকালে কুষ্টিয়ায় যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সনের উপর হামলা, ক্যামেরা ভাংচুর

নিজ সংবাদ ॥ যমুনা টেলিভিশন কুষ্টিয়ায় কর্মরত ক্যামেরাপার্সন ইরফান রানার উপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের বারখাদা ত্রিমোহনী এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের চিত্রধারণকালে তার উপরে হামলা চালায় স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুরা। জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে যমুনা টেলিভিশনের কাছে সংবাদ আসে বারখাদা ত্রিমোহনী এলাকায় কয়েকজনের ব্যক্তি মালিকানা জায়গায় জোরপূর্বক বালি ফেলে বাড়ি থেকে বেরোনোর পথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টাসহ তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের চেষ্টা করছে কয়েকজন সন্ত্রাসী। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন ইরফান রানা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বালি ফেলে জায়গা দখলের স্থানটি ক্যামেরায় ধারণকালে কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্যামেরাপার্সনের ওপর  হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ক্যামেরার মেমোরি কার্ড নিয়ে ক্যামেরাটি আছড়ে ভেঙ্গে ফেলা হয়। তাৎক্ষনিক ক্যমেরাপার্সন তার প্রতিনিধিকে ফোন দেওয়ার জন্য চেষ্টা করলে ফোনটি নিয়ে ভেঙ্গে  ফেলে ওই সন্ত্রাসীরা। শুধু ক্যামেরা ভেঙ্গেই নয়, এসময় ইরফান রানার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও ভেঙ্গে ফেলে সন্ত্রাসীরা। তারা তাকে শারীরিকভাবেও নির্যাতন করে।

যমুনা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধির সহকারী ক্যামেরাপার্সন ইরফান রানা জানান,  আমাদের কাছে খবর আসে ত্রিমোহনী  মোড়ের আগে হিসাব উদ্দিনের উডল্যান্ড ফ্যাক্টরীর সামনে কয়েকজন ব্যক্তির জমির উপর জোর পূর্বক বালি ফেলে দখল  নেওয়াসহ তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে স্থানীয় মাহাবুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। এমন সংবাদ পাওয়ার পর পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে পৌছে ভিডিও চিত্র ধারন করার সময় দখলবাজরা কোনকিছু বুঝে উঠার আগেই আমার ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে মারপিট শুরু করে। এসময় ক্যামেরা ছিনিয়ে ভাঙচুর করার পাশাপাশি ক্যামোরার মেমোরী কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ভেঙ্গে  ফেলা হয় আমার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটিও। সে জানায় হামলার ঘটনার সাথে যুক্তদের নাম জানি না তবে তাদের দেখলে আমি চিনতে পারবো।

তবে যাদের জমি নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে তাদের মধ্যে দুই সহদোর খোকন ও তার ভাই সামিউজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি মহল আমাদের বাড়িঘর উচ্ছেদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তৎপরতা চালাচ্ছে। এর আগে একদিন রাতের আধারে বালি ফেলে আমাদের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরেও বালি ফেলার সময় বিষয়টি সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে যমুনা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মাহাতাব উদ্দিন লালনকে জানায়। তিনি কুষ্টিয়ার বাইরে থাকায় তার সহকারী ক্যামেরাম্যানকে পাঠানোর কথা বলেন এবং কারা বালি  ফেলছে তাদের ছবিসহ বালি ফেলার ভিডিও ধারন করার সময় কয়েকজন এসে ক্যামেরাম্যানকে মারপিট করেন এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন। বিষয়টি নিয়ে যমুনা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মাহাতাব উদ্দিন লালন জানান, বালি ফেলে বাড়িসহ জমি দখলের সংবাদ পাওয়ার পর আমি কুষ্টিয়া শহরের বাইরে অবস্থান করায় তৎক্ষনাৎ আমার ক্যামেরাম্যানকে পাঠাই। ক্যামেরাম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিওচিত্র ধারন করার সময় তার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। একজন সংবাদকর্মীর উপর এই ধরনের হামলার ন্যাক্কারজনক। তিনি দোষীদের দ্রুত সময়ে আটকসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। তিনি বলেন এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার্স ইনচার্জ আননূর জায়েদ জানান, মৌখিকভাবে সংবাদ প্রাপ্তির পর দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পুলিশী  হেফাজতে রয়েছে। এখনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ  পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

অভিযোগ আছে স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের ইন্ধনে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা ওই এলাকার লোকজনকে হুমকী দিয়ে তাদের ভিটেবাড়ি ছেড়ে  যেতে বাধ্য করছেন। এই ঘটনার সাথে ও প্রভাবশালীর  যোগসাজেশ রয়েছে। এবিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন স্থানীয়রা। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে এই ব্যাপারে বিবৃতি দিয়েছে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন কুষ্টিয়া, টেলিভিশন ক্যামেরাপার্সন এ্যাসোয়িশেন কুষ্টিয়াসহ কুষ্টিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

আরো খবর...