জঙ্গি হামলার শঙ্কা কার্যকর পদক্ষেপ নিন

জঙ্গিবাদ অন্যতম বৈশ্বিক সংকট। ফলে জঙ্গি হামলার শঙ্কা আলোচনায় আসার অর্থই তা উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকে স্পষ্ট করে। সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেল, ঢাকাসহ সারাদেশে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করে মাঠে নামার চেষ্টা করছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) র্দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা। পুলিশের  কোনো টিম, স্থাপনা বা যানবাহনকে মূল টার্গেট করেছে তারা। এছাড়া বিমানবন্দর, দূতাবাস, বিশেষ ব্যক্তি, মাজারকেন্দ্রিক মসজিদ, চার্চ ও মন্দিরসহ যে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ও তাদের হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে-গোয়েন্দাদের কাছ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশব্যাপী সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। আমরা বলতে চাই, হামলার যে শঙ্কার বিষয়টি সামনে আসছে, তা সামগ্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না- এর আগে এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে যে, সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ের ঘটনার মধ্য দিয়ে এটাও সামনে এসেছে যে, দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ অনেকটাই দমানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু জঙ্গি তৎপরতা পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। এ ক্ষেত্রে এটাও বলা দরকার, গত বছরের ২৯ এপ্রিল ঢাকার গুলিস্তানের একটি ট্রাফিক বক্সের পাশে হাতে তৈরি  বোমা বা আইইডির বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্রাফিক পুলিশের দুই সদস্য ও একজন কমিউনিটি পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনার ঠিক ২৮ দিন পর ২৬ মে রাত পৌনে ৯টার দিকে মালিবাগের পলওয়েল ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে ফ্লাইওভারের নিচে রাখা পুলিশের বিশেষ শাখার একটি পিক-আপ ভ্যানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতেও ট্রাফিক পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ ৩ জন আহত হন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ফেলে রাখা বোমা উদ্ধারসহ নানা ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা সামনে এসেছে। আমরা বলতে চাই, এবারের হামলার শঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে  দেশের সব ইউনিটে চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। যেখানে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে জানা গেছে, তথাকথিত আইএস আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে কথিত ‘বেঙ্গল উলায়াত’ ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘটনাপ্রবাহ বিশে¬ষণ করে দেখা যায়, সাধারণত বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমেই ‘বেঙ্গল উলায়াত’ ঘোষণা করা হয়। এ অবস্থায় আইএসের দেশীয় অনুসারী নব্য জেএমবির সদস্যরা হামলা পরিচালনাসহ যে কোনো জঙ্গি হামলা বা বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যাকান্ড সংঘটনসহ নাশকতামূলক কর্মকান্ড করতে পারে। তাই পুলিশের সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমরা মনে করি, এর আগে বিভিন্ন সময়ের নাশকতার ঘটনাগুলো  যেমন আমলে নিতে হবে, তেমনিভাবে বর্তমান অবস্থা বিচার বিশে¬ষণ সাপেক্ষে গোয়েন্দাদের তথ্য আমলে নিয়ে সব ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।  আমরা বলতে চাই, দেশ থেকে জঙ্গিবাদ র্নির্মূলে কাজ করতে হবে সংশি¬ষ্টদেরই। এছাড়া মাঝে মধ্যে জঙ্গি সদস্যদের গ্রেপ্তার ঘটনা ঘটে, যার মধ্য দিয়েও তাদের সক্রিয়তা প্রকাশ পায়। ফলে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি। জানা যাচ্ছে, উগ্রপন্থি বা তাদের সংগঠনের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি, পুলিশের সবাইকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখা, পুলিশের গাড়ি-স্থাপনা খালি বা পরিত্যক্তভাবে ফেলে না রাখা, পুলিশের ভবনগুলোতে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা ও পরিচয় নিশ্চিত করা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা, চেকপোস্টে তল¬াশি বাড়ানো, সন্দেহ হলে ব্যাগ-দেহ তলস্নাশি করা, সন্দেহজনক এলাকায় বস্নক রেইড করতে সংশি¬ষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সব ধরনের উদ্যোগের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কিংবা  যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটাতে যারা তৎপর তাদের রুখে দিতে হবে। জঙ্গিবাদ নির্মূলে করণীয় নির্ধারণ সাপেক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। ভুলে যাওয়া যাবে না, এটা সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে। বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সার্বিকভাবে জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সদা-সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ জারি রাখা আবশ্যক।

 

 

 

আরো খবর...