ছোট ভাই সবুজ পুলিশের ওপর হামলা মামলার প্রধান আসামী

দৌলতপুরে প্রতারক মনির ও তার বড় ভাই শরিফুলের ভূমি অফিস থেকে মাসিক চাঁদা দাবি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের শীর্ষ প্রতারক মনিরুজ্জামান মনির ও তার বড় ভাই শরিফুল ইসলাম মহিষকুন্ডি ও ভাগজোত ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে মাসিক মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেছে। চাঁদার টাকা না দিলে সংবাদ প্রকাশসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দিয়েছে প্রতারক মনিরের বড় ভাই শরিফুল। এছাড়াও প্রতারক দুই সহোদরের ছোট ভাই সবুজ কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশকে মারপিট ও লাঞ্ছিত করার প্রধান আসামী হয়েও সে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাদের বিভিন্ন অপরাধ ও অপকর্মে এলাকাবাসী চরমভাবে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। মনিরুজ্জামান মনির বিভিন্ন সময় পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের সচিব তার ঘনিষ্ঠজন দাবি করে এলাকায় অবাধে অনৈতিক কর্মকান্ড ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড ঘটিয়ে থাকে। সচিব ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা তার কাছের মানুষ এই ভেবে এলাকার সাধারণ মানুষ মনিরুজ্জামান মনিরসহ তার অপর দুই ভাই ও বাবার অন্যায়, অত্যাচার ও চাঁদাবাজি কর্মকান্ড নীরবে সহ্য করে এবং মুখ খুলতেও ভয় করে। উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের ইসলামনগর বাগানপাড়া (বাঁধেরবাজার সংলগ্ন) গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে এমনটায় জানাগেছে। ফজর আলী দেওয়ান তার চাঁদাবাজ ও প্রতারক ছেলেদের এমন কর্মকান্ডে নিজেকে গর্বিত ভেবে সেও দৌলতপুর উপজেলা ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন অফিস ও দপ্তরে দালালি কর্মকান্ড করে থাকেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার অনেকে জানিয়েছেন।

প্রাগপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা জানান, মনিরুজ্জামান মনিরের বড় ভাই শরিফুল ইসলাম তার কাছে মালিককে দেওয়ার কথা বলে মাসিক মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। না দিলে সংবাদ প্রকাশসহ অন্যত্র বদলি করে দেওয়ার হুমকি দেয়। একই ধরনের কথা বলে মাসিক চাঁদা দাবি করে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিনের কাছেও। মাসিক চাঁদা না দিলে তাকে একই ধরণের হুমকি দেয় মনিরুজ্জামান মনিরের বড় ভাই শরিফুল।

এসএসসি গণিত পরীক্ষা চলাকালে জেএমজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাঁধা দেওয়ায় ওই কেন্দ্রের কর্তব্যরত পুলিশকে মারপিট ও লাঞ্ছিত করে মনিরুজ্জামান মনিরের ছোট ভাই সবুজ। তৎক্ষনাত পুলিশ ও পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব আশরাফুল ইসলাম নান্নু এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তাব্যক্তিরা পুলিশের ওপর হামলাকারী সবুজকে আটক করে দৌলতপুর থানায় সোপর্দ করে। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মামলা হলে সবুজ দীর্ঘদিন হাজত খেটে বাইরে বের হয়ে আবারও বেপরোয়া কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়।

২০০৮ সালে ভেড়ামারা উপজেলার দামুদিয়া গ্রামে বিয়ে করা প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা গোপন করে দুই লক্ষ টাকা যৌতুক নিয়ে দৌলতপুরের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার তুজামের মেয়েকে বিয়ে করতে গেলে তৎকালীন কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার গাজী জসিম উদ্দিনের নির্দেশে দৌলতপুর থানার ওসি প্রয়াত আব্দুস সামাদ বিয়ের আসর থেকে মনিরুজ্জামান মনিরকে আটক করে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠায়। দীর্ঘ একমাস হাজতবাস শেষে কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে মনিরুজ্জামান মনির গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় গার্মেন্টস্ ফ্যাক্টরীতে শ্রমিক পদে কাজে যোগ দেয়। মনিরের প্রতারণার বিষয় মানুষের মন থেকে আড়াল হলে আবারও নতুন করে প্রতরাণা শুরু করে। চাকুরী দেওয়ার নাম করে অথবা মানুষের বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার নাম করে নিজ এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আবারও ঢাকায় গা ঢাকা দেয়। এলাকার মানুষ জেনে যাবে ভেবে কয়েক মাস পর পর সে ঢাকার ঠিকানাও বদল করে। শুধু তাই নয় তার আপন চাচা আমির দেওয়ানকে মারপিট করে আহত করে তার বাড়ির জমি ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে রেজিষ্ট্রি করে নেয় প্রতারক মনির ও তার দুই ভাই এবং বাবা। এনিয়ে আমির দেওয়ানের দায়ের করা মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়াও গতবছরে পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে প্রতারক মনির তার বাবা ও মা’কে কুপিয়ে জখম করে আহত করে। এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে প্রাণে বাঁচে বাবা মা।

সর্বশেষ গতবছরের (২০১৯) ডিসেম্বরে দৌলতপুরের বাজুডাঙ্গা গ্রামের মৃত জামিরুলের ছেলে সোহেলের মাধ্যমে মনিরুজ্জামান মনির দৌলতপুর সোনালী ব্যাংক শাখায় পে-অর্ডার জালিয়াতি করে ৯৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আবারও ঢাকায় গা ঢাকা দিয়েছে তারা। এনিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। প্রতারক মনির সোহেলের বাড়ির জমি কৌশলে নিজ নামে রেজিষ্ট্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি রাজনৈতিক অফিসে তাদের নিয়ে মনিরকে মারপিট করে দিনভর আটকিয়ে রেখে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে প্রতারক মনির ও সোহেল ঢাকায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। সচেতন মহলের জিজ্ঞাসা প্রতারক মনির, সোহেল, শরিফুল ও সবুজের প্রতারণার জ¦ালায় অতীষ্ট এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাবে কি?

আরো খবর...