ছাত্রলীগ ও কৃষক লীগের নেতাসহ আহত পাঁচজন

খোকসার শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন পন্ড

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন পন্ড হয়ে গেছে। কৃষকলীগের সভাপতি ও ছাত্রলীগের আহবায়সহ ৫ জন আহত হয়েছে। উপজেলা ৯ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার ধারাবাহিক ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের পঞ্চম দিন গতকাল সোমবার সকালে বিলজানি বাজারে শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন ঘোষ, কুষ্টিয়া-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জসহ অন্যান নেতারা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা রফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠান সঞ্চালনের সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পর্কে বিষদাগার করেন। এ ঘটনার সূত্রধরে দিধা বিভক্ত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বিক্ষুদ্ধ কর্মীরা মুহুত্যের মধ্যে সম্মেলনের জন্য তৈরী মঞ্চ ও চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের অনুগত উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও ওসমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, ছাত্র লীগের আহবায় শিমুল, রফিকুল ইসলামসহ ৫জন আহত হয়। কৃষকলীগ নেতাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাঁকীরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে দলীয় সূত্র জানায়। স্থানীয়রা জানায়, আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলার সময় সব নেতারা হামলার শিকার হন। ধস্তাধস্তির সময় জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার পোশাক ছিড়ে ফেলে বিক্ষুদ্ধ কর্মীরা। আহত কৃষক লীগ নেতা আনিস বলেন, তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতিপক্ষ কুষ্টিয়া-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের অনুসারীরা সভা চলাকালীন সময়ে তাদের উপর হামলা করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা নেতারাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

হাসপাতালে আহত কৃষক লীগের নেতার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক শিমুল ঘটনার বর্ননা দেন। তিনি দাবি করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা তার উপর প্রথম হামলা করে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেনি।   উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতার বলেন, অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রফিকুল ইসলাম উষ্কানীমুলক বক্তব্য দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

কুষ্টিয়া-৪ আসেনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, বড় দল সম্মেলনের সময় একটু বিরোধ দেখা দেখা দিতেই পারে। তবে এটাকে নেগেটিভভাবে না নেওয়ার জন্য বলেন। তার উপর হামলা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি সব কর্মীর কাছে নেতা। আমার উপর হামলা হয়নি।” তিনি হামলাকারীদের ঠেকানোর জন্য চেষ্টা করেছেন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলীসহ একাধিক নেতার ফোনে কল করা হয় কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ করেনি। এ ব্যাপারে থানা ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম মেহেদী মাসুদ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়। প্রথম থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ লাভ করে। দ্বিধাবিভক্ত নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। ফলে খোকসা সদর ইউনিয়ন, ওসমানপুর ইউনিয়ন, বেতবাড়িয়া ও একতার ইউনিয়নের কমিটি ঘোষনা ছাড়াই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আরো খবর...