ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধের পেছনে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ ছাত্রলীগের চাঁদাবাজির ঘটনার পর দেশজুড়ে যে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে তা আড়াল করতেই সরকার আদালতকে দিয়ে ছাত্র দলের কাউন্সিল বন্ধ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল রোববার রাজধানীতে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে মিছিল পরবর্তী সমাবেশে এ অভিযোগ করেন তিনি। রিজভী বলেন, গোটা দেশে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি নিয়ে ছি ছি পড়ে গেছে। এটাকে আড়াল করে জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্যই শেখ হাসিনা ‘আদালতকে কসাইয়ের ছুরি হিসেবে’ ব্যবহার করে ছাত্রদলের কাউন্সিল বন্ধ করেছেন। “ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে কালকে অব্যাহতি দিয়েছেন কে, অন্য দুই জনকে দায়িত্ব দিয়েছেন কে? শেখ হাসিনা। এটি করেছেন, গণভবনে বসে আওয়ামী লীগের সভায়। আর আদালত বিএনপির গঠনতন্ত্রে যা আছে সেগুলোকে আমলে না নিয়ে শেখ হাসিনার কথায় কাউন্সিলের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।” আওয়ামী লীগের সহযোগী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনার মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে শনিবার তাদের সরিয়ে দেওয়া। এ দিনই অনুষ্ঠিতব্য ছাত্রদলের কাউন্সিল দুদিন আগে সদ্য সাবেক কমিটির এক নেতার আবেদনে আদালতের আদেশে তা বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের কর্মকান্ডের সমালোচনা করে বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “আপনারা দেখেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ৮৬ কোটি টাকা দাবি করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সলরের কাছে। ভাইস চ্যান্সলর, সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে যেটা ফুটে উঠেছে- সেখানে জ্ঞানের কথা নাই, বিজ্ঞানের কথা নাই, সাহিত্যের কথা নাই; আছে চাঁদাবাজির কথা। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন ঈদের খরচের জন্য আমি চেয়েছি। “আমি ছাত্রদলের সভাপতি ছিলাম, অনেক দিন মধুর ক্যান্টিন থেকে বাসায় হেঁটে এসেছি- লজ্জায় কাউকে বলতে পারিনি। আজকে শেখ হাসিনা উপহার দিয়েছেন এমন ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, তারা ঈদের খরচের জন্য টাকা চান।” আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে রিজভী দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কাকরাইলের নাইটিংগেল রেস্তোরাঁ পর্যন্ত মিছিল করেন। এদিকে দুপুরে মানবন্ধনে চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিচার দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। তারা বলেন, এদের বয়স বেশি না। এদেরকে যারা চাঁদাবাজি শিখিয়েছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই মানববন্ধন হয়। বিএনপির ১২টি অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠন মানববন্ধনের যে টানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এটি তার প্রথমটি। সংগঠনের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবদুর রহিমের পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের নাদিম চৌধুরী ও সেলিম মিয়াসহ বক্তব্য দেন।

আরো খবর...