ছাতারপাড়ায় সন্ত্রাসী হামলায় আহত কৃষকের মৃত্যু

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জানারুল ইসলাম (৩২) নামের এক কৃষককের পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার সময় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত কৃষক জানারুল ইসলাম দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া এলাকার জসিম উদ্দিন পিয়াদার ছেলে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আসলাম হোসেন জানান, গত ২৪ জুন ছাতারপাড়া এলাকার বটতলা চায়ের দোকানে বসে ছিলো জানারুল ইসলাম। এসময় স্থানীয় নওয়াব, আসমত, হামেদ, নজরুল, সাইফুল, আজগরসহ বেশ কয়েকজন এসে রড, কাঠের বাটাম দিয়ে জানারুলকে পিটিয়ে আহত করে। তারপর প্রাণভয়ে জানারুল দৌড়ে পালিয়ে যেতে চাই। কিন্তু তাকে আবারো ধরে মারধর করে। নিহতের বড় ভাই জিয়ারুল ইসলাম দাবী করেন, আমার ভাই জানারুলকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে ওরা মেরে ফেলেছে। আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সে মারা গেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। নিহতের পিতা জসিম উদ্দিন পিয়াদা জানান, আমার ছেলের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে নওয়াব গং রা। মামলার ভয়ে সে বাড়ীতে থাকতে পারতো না। তাকে দিনে দুপুরে একা পেয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, এ ধরনের কোন ঘটনা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ আসেনি। এদিকে সকালে দৌলতপুর থানা পুলিশ নিহত জানারুল ইসলামের বাড়ীতে গেলেও মৃত্যুর খবর জানেন না বলে জানান দৌলতপুর থানার ওসি। উলে¬খ্যঃ মাত্র ১ বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঐ এলাকার দুই (গাইন ও পিয়াদা) গ্র“পের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেই চলেছে। গত ১১ জুন দুপুরে দু’পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলায় আহত হন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক গাইন গ্র“পের নওয়ার আলী ও  পিয়াদা গ্র“পের কৃষক তায়েজ আলী। এ ঘটনায় নওয়াব আলী বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ১৫ জনের নামোলে¬সহ মামলা করেন দৌলতপুর থানায়। এরপর গত ২১ জুন পুলিশ মামলাটির তদন্তে গিয়ে এজাহারভুক্ত আসামিদের বাড়ি তল¬াশি করে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে তার জব্দ তালিকা প্রস্তুতসহ অবৈধ অস্ত্র আইনে একই মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পুলিশ। এর পর থেকে ঐ এলাকায় প্রতিনিয়ত হামলা, লুট, প্রতিপক্ষের বাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

আরো খবর...