চীনে একের পর এক শহরে বন্ধ হচ্ছে গণপরিবহন

করোনাভাইরাস

ঢাকা অফিস \ চীনে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে হুবেই প্রদেশ জুড়ে একের পর এক শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রথমে হুবেই প্রদেশের উহান শহরে গণপরিবহন বন্ধ হওয়ার পর অন্তত আরো চারটি শহরে গণপরিবহন বন্ধ হচ্ছে। এ শহরগুলো হচ্ছে, হুয়াংগ্যাং, এঝু, সিয়ানতাও এবং চিবি।এতগুলো শহরে একসঙ্গে গনপরিবহন বন্ধের এ ঘটনা ‘নজিরবিহীন’। উহান শহরের বাসিন্দা এক কোটি ১০ লাখ। তাদেরকে শহর না ছাড়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে সব বহির্গামী ট্রেন সার্ভিস ও উড়োজাহাজের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং দুপুর ১টা থেকে বাস, সাবওয়ে ও ফেরি সার্ভিসও বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় স্থানীয় সরকার। এর কয়েকঘণ্টা পর একই ব্যবস্থা নেয় দ্বিতীয় আরেকটি শহর হুয়াংগ্যাংয়ও। এ শহরের বাসিন্দা প্রায় ৭০ লাখ। উহানের পূর্বের এ শহরটিতে কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে বাস ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া ছাড়াও লোকজনকে শহরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যান্য শহরগুলোতেও মানুষের চলাফেরা এবং একে অপরের সংস্পর্শে আসতে না দেওয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। হুয়াংগ্যাংয়ের দক্ষিণের এঝু শহরে ট্রেন স্টেশনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সিয়ানতাও শহরে গণপরিবহন বন্ধ করাসহ লোক সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে স্থাপনা গেড়ে ভাইরাস সংক্রমণ সনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।চিবি শহরেও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পরিবহন।রাজধানী বেইজিংয়ে বাতিল করা হয়েছে নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বড় বড় সব অনুষ্ঠান। বিশ্বব্যাপী বিমানবন্দরগুলোতে চীন থেকে যাওয়া যাত্রীদের কড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। নতুন ভাইরাসটির কোনো টিকা নেই।শ্বাসযন্ত্রে অসুখ সৃষ্টিকারী এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ও প্রায় ৬০০ লোক আক্রান্ত হয়েছে। উহানে একটি হাসপাতালের ডাক্তার বিবিসি-কে বলেছেন, “ভাইরাসটি উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতাল ভরে যাচ্ছে হাজার হাজার রোগীতে। তারা লাইন ধরে ডাক্তার দেখানোর অপেক্ষায় আছে। এতেই বোঝা যায় তারা কতটা আতঙ্কে আছে।” ‘হাঁচি, কাশির মাধ্যমে’ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকা এ রোগটি চীনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি সূদুর যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য কয়েকটি দেশেও ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরেও প্রথম এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। সেখানে চীন থেকে যাওয়া ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির দেহে ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ভাইরাসটির বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডক্লিউএইচও) বুধবার তাদের জেনেভার সদরদপ্তরে এক বৈঠকের পর জানিয়েছে, নতুন এ করোনাভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবকে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে কি না, বৃহস্পতিবার সে সিদ্ধান্ত নেবে তারা। ধারণা করা হয়, চীনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর উহানের একটি পশু বাজারে অবৈধভাবে চলা বন্যপ্রাণী ব্যবসা থেকে গত বছরের শেষ দিকে প্রাণঘাতী এ করোনাভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দেশে বেশ কয়েকজন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যুর সব ঘটনা উহান যে প্রদেশে অবস্থিত সেই হুবেইতেই ঘটেছে। ২০০২-০৩ সালে চীনে সার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে প্রায় ৮০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই সময় প্রাদুর্ভাবের বিভিন্ন তথ্য গোপন করেছিল চীনের কমিউনিস্ট সরকার। কিন্তু এবার জনগণের উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রন্তের সংখ্যার প্রতিদিনের হালনাগাদ দিচ্ছে তারা।

 

আরো খবর...