চিকিতসার সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে

বিশ্বে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যাও পাঁচ লাখের ওপর। অর্থাৎ বিশ্ব পরিসংখ্যানে শতকরা ৫ ভাগ আক্রান্ত রোগী মৃত্যুবরণ করছেন। সেদিক থেকে আমাদের দেশের অবস্থা অনেকটা ভালো। এখানে আক্রান্তের তুলনায় মৃতের হার এখনো শতকরা ১ দশমিক ৩ ভাগের নিচে রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন আক্রান্তের মধ্যে ৯৮ জনেরও বেশি সুস্থ হচ্ছেন। সেদিক থেকে করোনা আক্রান্তদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে যাদের হাঁপানি, ক্যানসার, ডায়াবেটিস বা উচ্চরক্তচাপ প্রভৃতি দীর্ঘস্থায়ী রোগ আছেÑ তাদের বেশি সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয়। সম্ভব হলে প্রথম থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে থাকতে হবে। বিশ্বের পরিসংখ্যানে মৃতের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড প্রভৃতি উন্নত দেশে মৃত্যুর হার বেশি ছিল। প্রথম পর্যায়ে এসব দেশে বৃদ্ধাবাসে বসবাসকারী বয়োজ্যষ্ঠ নাগরিকরা চিকিৎসা শুরু হতে হতেই মৃত্যুবরণ করেছেন। পরের দিকে তারা এই মৃত্যুর প্রবণতা রোধ করতে সক্ষম হয়েছেন। অবশ্য আমাদের দেশে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা সরকারি পরিসংখ্যানের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবরেও মনে হচ্ছে সরকারি প্রতিবেদনে বাস্তবের যথাযথ প্রতিফলন হচ্ছে না। জনসংখ্যার তুলনায় দেশে করোনার পরীক্ষার হার অপ্রতুল। দেখা যাচ্ছে যেটুকু পরীক্ষা হয়, এর শতকরা ২১-২৩ ভাগ মানুষ পজিটিভ প্রমাণিত হচ্ছেন। ফলে পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার যথেষ্ট বেশি। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নত বিশ্বের মতো ব্যাপক হারে পরীক্ষা করা সম্ভব হলে রোগীর সংখ্যা অনেক বাড়ত এবং অনেক অসমর্থিত মৃত্যু এই খাতে ঘটেছে বলে প্রমাণিত হতো। কিন্তু তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও এবং সর্বমহলের দাবি জোরদার থাকা সত্ত্বেও করোনা পরীক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ও দ্রুত পরীক্ষার ফল জানানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দেশের দ্বিতীয় নগরী চট্টগ্রামে পরীক্ষার ফল পেতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত লাগছে। এতে বোঝা যায়Ñ করোনা মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা যেমন কম, তেমনি বাস্তবচিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রেও আমাদের সামর্থ্য যথাযথ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করে জানাচ্ছে, জুন  থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ বাড়তে থাকবে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এর প্রমাণ এখন মিলছে। আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভাবিত। রাজধানী ঢাকাসহ কোথাও করোনা চিকিৎসার সঠিক কোনো নির্দেশনা নেই জনগণের জন্য। এ অবস্থায় মানুষ নিজের উদ্যোগেই নিজ নিজ পরিচিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধপত্র খাচ্ছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকেও করোনা প্রতিরোধের নানা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে তা ব্যবহার করছেন। এভাবে সরকারের অগোচরেই দেশে বহু করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই তো মারাও যাচ্ছেন। এই মৃত্যুর খবর সরকারি হিসাবে নেই। এখন বেশিরভাগ মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগেই নিরাময়ের পথ খুঁজছে। এ কারণেই বাজার থেকে করোনার ওষুধ বলে প্রচারিত ব্র্যান্ডগুলো উধাও হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেকে অক্সিজেন সিলিন্ডারও ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখা নিরাপদ মনে করছেন। এই বাস্তবতা সরকারি ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতাই তুলে ধরে। আমরা মনে করিÑ এই যুদ্ধে সরকারের ব্যর্থ হলে চলবে না, তার সব সীমাবদ্ধতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে।

আরো খবর...