চিকিতসকদের মৃত্যু উদ্বেগজনক

করোনা সংক্রমণে বাংলাদেশে চিকিতসকদের মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি। এর কারণ নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন। শোনা যাচ্ছে, প্রথম দিকে যেসব ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী তাদের সরবরাহ করা হয়েছিল, সেগুলো মানসম্মত ছিল না। এ ছাড়া চিকিতসকদের আইসোলেশনের যথাযথ ব্যবস্থা কখনো হয়নি। আমরা হয়তো চীন বা উন্নত বিশ্বের মানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হব না। কিন্তু করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্মুখ কাতারের প্রধান যোদ্ধা চিকিতসকদের রক্ষা করা সরকার ও জাতির কর্তব্য। সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশে প্রায় অর্ধশত চিকিতসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এভাবে তাদের সংক্রমিত হওয়া ও মৃত্যুবরণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চিকিতসার সংকট দেখা দেবে। কারণ বাস্তবতা চিকিতসকদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে পারে। কোনো কোনো মহল থেকে ইতোমধ্যে শোনা যাচ্ছে, অনেক চিকিৎসক নিজেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। এ প্রবণতা একবার শুরু হলে তা করোনা সংক্রমণকে ছাড়িয়ে চিকিৎসকদের মনকে সংক্রমিত করতে পারে। ফলে এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত মনোযোগ দেওয়া দরকার। ইতোমধ্যে চীন থেকে ১০ জনের যে বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে অবস্থান করছে, আশা করি তাদের অভিজ্ঞতা থেকে চিকিৎসকদের জন্য করণীয় সম্পর্কে যথাযথ পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ এখনো করোনা সংক্রমণের শীর্ষ পর্যায়ে  পৌঁছেনি। আরও ১০-১৫ দিন পর সে পর্যায়ে আসবে। এই কয়দিনে সংক্রমণ জ্যামিতিক হারে বাড়বে। সেই সূত্র ধরে অনেকেই বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনা করছেন। সেখানে একদিনে ৫৪ হাজার পর্যন্ত মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। সে পর্যায়ের না হলেও বাংলাদেশে যে সংক্রমণের উল্লম্ফন ঘটতে যাচ্ছে, সে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এখন আমাদের করোনাযুদ্ধের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি প্রয়োজন। আর তাতে সর্বাগ্রে প্রয়োজন হলো নিবেদিতপ্রাণ দক্ষ চিকিৎসক, যার অপ্রতুলতা দেশে। এই বাস্তবতায় চিকিৎসকদের মৃত্যু যে কোনো মূল্যে ঠেকানো জরুরি। সরকারের নিশ্চয় জানা আছে দেশে কত ডাক্তার রয়েছেন এবং তাদের কার কী রকম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাÑ এ তথ্যও তাদের কাছে আছে। আগামী দিনে সম্ভাব্য  রোগীর সংখ্যা হিসাব করে হাসপাতালের শয্যা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। আর চিকিৎসকদের সেভাবে দায়িত্ব বণ্টন করে নিয়োগ দিতে হবে। জাতীয় সংকটকালে সব চিকিৎসকের  সেবা এ কাজে নিশ্চিত করা দরকার। সে জন্য যেমন সুষ্ঠু পরিকল্পনা দরকার, তেমনি সব চিকিৎসকের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন। সবাইকে এভাবে কাজে লাগাতে হলে নেতৃত্ব  থেকে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করতে হবে। চিকিৎসকের সঙ্গে নার্স ও  সেবাদানকারীদেরও একইভাবে উদ্বুদ্ধ করে কাজে লাগাতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয়সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক গ্রহণ করে তাদেরও উদ্বুদ্ধ করে এ কাজে নিয়োগ দিতে হবে। এভাবে পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কঠিন পরিস্থিতি উত্তরণ সম্ভব হতে পারে। এ কাজে দেরি বা ডিলে করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আশা করব, পরিস্থিতি সামাল দিতে কালবিলম্ব না করে স্বাস্থ্য দপ্তর এমন একটি উদ্যোগ নেবে। নয়তো দেশে দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে এবং জনদুর্ভোগ পৌঁছবে সীমাহীন পর্যায়ে।

আরো খবর...