চাল কিনতে ডিলার পয়েন্টে আসতে হবে না

 কুষ্টিয়া জেলা কমিটির জরুরী সভায় সিদ্ধান্ত
কাল থেকে ওএমএস চাল স্বেচ্ছাসেবকরা ঘরে ঘরে পৌছে দেবে

নিজ সংবাদ ॥ ওএমএস চাল বিতরনের দ্বিতীয় দিনে কুষ্টিয়ার ১৮টি পয়েন্ট খোলা থাকলেও তালিকা সমন্বয় না হওয়াতে চাল কিনতে পারেনি অনেকে। সরকারের দেয়া ১০টাকা দরের চাল কিনতে গতকাল মঙ্গলবর অনেক দুস্থ ও গরীব মানুষকে শহর এবং শহরতলীর বিভিন্ন ওএমএস ডিলারের ঘরে ধর্না দিতে দেখা গেছে। তালিকা চুড়ান্ত না হওয়াতে অধিকাংশ ডিলাররা চাল বিক্রি করতে পারেনি। তবে হাতে গোনা কয়েকটি ডিলার পয়েন্ট থেকে আগের নিয়মে অনেকে চাল কিনতে পেরেছে বলে জানা যায়। এদিকে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মতে বৃহস্পতিবার থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে চাল ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ৫এপ্রিল থেকে ওএমএস এর চাল ১০টাকা দরে সারা দেশের ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি শুরু হয়েছে। রবিবার প্রথম দিন জেলা শহরের ১৮টি ডিলার পয়েন্টে এই চাল বিক্রি শুরু হয়। প্রথম দিনে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখায়ে চাল ক্রয় করতে পেরেছে সাধারন মানুষেরা। এদিকে সোমবার জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন থেকে পৌর কাউন্সিলারদের তালিকা করে চাল বিক্রির জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। সেই মোতাবেক তড়িঘড়ি করে কাউন্সিলাররা প্রতি ডিলার পয়েন্টে ৫ কেজি করে ১০টাকা দরে চাল বিক্রির জন্য ২২৯ জনের তালিকা প্রস্তত করে। কিন্তু এই তালিকা নিয়ে নানা কথা উঠলে গতকাল সকালে চাল কিনতে এসে জনগন জানতে পারে যে আগের নিয়মে এবং কাউন্সিলারদের তৈরি তালিকা মোতাবেকও চাল বিক্রি করা হবে না। এ কারনে সকাল থেকেই অধিকাংশ ডিলার পয়েন্ট খোলা থাকলেও চাল বিক্রি না করে বসে থাকে। এসময় প্রতিটি পয়েন্টে শত শত দুস্থ্য ও অসহায় মানুষদের ব্যাগও টাকা হাতে করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আবার অনেকেকে বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে চার কেনার চেষ্টা করেও চাল কিনতে না পেরে মনোকষ্ট নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান। এদিকে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ সুপার এস.এম তানভীর আরাপাত পিপিএম বার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারন সম্পাদক আসগর আলী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মুহাঃ ওবায়দুর রহমান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সলার এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ওএমএস চাল বিক্রির জন্য প্রতি ওয়ার্ডে ১০সদস্যের কমিটি গঠন করে তালিকা প্রস্তত করার সিদ্ধান্ত হয়। কাউন্সলারকে প্রধান করে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী, ইমাম, সুধী ও শিক্ষকদের সমন্বয় এই কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি প্রতি  দিনের জন্য ২২৯ জনের তালিকা প্রস্তত করবে এই তালিকা মোতাবেক প্রতি ডিলার পয়েন্টে থেকে সপ্তাহের তিন দিন ৬৮৭ জনের ঘরে চাল পৌছে দিয়ে নগদ টাকা নিয়ে আসবে স্বেচ্ছাসেবকরা। তবে এই বিক্রির কাজে নিয়োজিত কেউ অনিয়মের আশ্রয় নিলে প্রশাসন থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়। সপ্তাহে ১ জন ৫ কেজি চাল কিনতে পারবে না।

 

আরো খবর...