চলে গেলেন সাংবাদিক রিজভীর চাচা হাজী শেখ মেহের আলী

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলী জেলার চুঁচুড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেছেন সাংবাদিক রনজক রিজভী ও হাবীব চৌহানের সেজো চাচা হাজী হাফেজ শেখ মেহের আলী। গতকাল মঙ্গলবার রাত ২টা ৫ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই  মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন-গুণগ্রাহি রেখে গেছেন। ৮  সেপ্টেম্বর ব্রেন স্টোকের পর করোনা পরিস্থিতির কারণে বেসরকারি হাসপাতালগুলো ভর্তি না নেয়ায় ৯  সেপ্টেম্বর চুঁচুড়া হাসপাতালে ভর্তি করা করা হয়। সেখানে সর্বোচ্চ চিকিৎসার পরও বার্ধক্যজনিত কারণে তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি। শেখ মেহের আলী কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দুর্গাপুরের সৎজন আলহাজ্ব শেখ মোহা. সেলিমের ছোট ভাই। ২০১৭ সালের ১৫ এপ্রিল শেখ মোহা. সেলিমের মৃত্যুর পর তার আর বাংলাদেশে আসা হয়নি। তবে তার মেঝো ভাইয়ের তিন সন্তানের নিয়মিত খোঁজ-খবর  রেখেছেন। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ব্যান্ডেলের অদূরে রাজহাটের ভাটুয়ায় পিতৃভূমিতে বারবার ডেকে নিয়েছেন। এবং পিতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন তিনি। তিনি বড় ভাই শেখ মোহা. সেলিম ও তার তিন সন্তানকে দেখতে বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। একুশে টেলিভিশন ঘুরে দেখে পশ্চিমবঙ্গে টেলিভিশনের সঙ্গে তুলনা করে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা চর্চার ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন হাফেজ শেখ মেহের আলী। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম খুব পছন্দ করতেন তিনি। করোনা পরিস্থিতির আগে নজরুল একাডেমি থেকে বেশকিছু বই সংগ্রহও করিয়েছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে তার হাতে বইগুলো পৌঁছায়নি। তার আগেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। এদিকে, স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে হাফেজ শেখ মেহের আলীর জানাজা শেষে ভাটুয়া গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বাংলাদেশে হাজী হাফেজ শেখ মেহের আলীর বড় ভাই  শেখ মোহা. সেলিমের স্ত্রী, তিন ছেলে-মেয়ে এবং পশ্চিমবঙ্গে একমাত্র বোন  সেলিমা, ভাই বাদল, হানিফ এবং নাসির উদ্দিনসহ অসংখ্য স্বজন-শুভাকাঙ্খি রয়েছে।

আরো খবর...