চতুর্মুখী সংকটে চামড়াশিল্প

বাংলাদেশের রপ্তানির দ্বিতীয় শীর্ষ খাত হচ্ছে চামড়া, জুতা ও চামড়াজাত পণ্য। এসব পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, পশ্চিম ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। কিন্তু কোভিড ১৯-এর প্রভাবে এসব দেশ রীতিমতো কাঁপছে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। অ্যাডিডাস, নাইকি, ক্লার্কসের মতো বড় বড় ব্র্যান্ডের বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশের দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানি খাত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চার বছর ধরে বাংলাদেশের চামড়া রপ্তানির চিত্র হতাশাজনক। এর মূল কারণ বাংলাদেশি ট্যানারিগুলোয় কমপ¬ায়েন্স অর্থাৎ মানসম্পন্ন ও পরিবেশসম্মত কারখানা না থাকা। শ্রমিকরা কাজ করছে দূষিত পরিবেশে। গত বছর দেশের চামড়া খাতে রপ্তানি কম হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ২৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি কমেছে প্রক্রিয়াজাত চামড়া ও চামড়াজাত জুতার রপ্তানি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারিগুলোয় এখনো অবিক্রীত রয়েছে ৭০০  কোটি টাকার চামড়া। তাদের মতে, এবারের কোরবানির কাঁচা চামড়া কেনার বিষয়টি প্রায় পুরোটাই নির্ভর করছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর। বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাগ, বেল্ট, জ্যাকেটের মতো পণ্যের রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২২ কোটি ৫ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১১ শতাংশ কম। সবচেয়ে আশার পথ  দেখানো জুতার রপ্তানি কমেছে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে চামড়া খাতের মূল সমস্যা উৎপাদন প্রক্রিয়ার দূষণ, যার সঙ্গে করোনা বাড়তি সংকট তৈরি করেছে। গেল ঈদুল আজহার সময় যে পশুর চামড়া নিয়ে মহাকেলেঙ্কারি হলো, তার জন্য চামড়াশিল্পের মালিকরা সাভারে স্থাপিত নতুন চামড়া শিল্পনগরীর অবকাঠামোগত সমস্যাকে দায়ী করেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর কয়েক বছর পার হলেও সাভার চামড়াশিল্পের কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) প্রস্তুত না হওয়া এবং কঠিন বর্জ্য  ফেলার জায়গা বা ডাম্পিং ইয়ার্ডের কাজ শুরু না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক। আন্তর্জাতিক বেশ কিছু বড় কোম্পানি আমাদের চামড়াজাতদ্রব্য আমদানি করে না এ কারণে যে, আমাদের ট্যানারিশিল্পগুলো পরিবেশ সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা মেনে চলে না। আমরা যদি দেশি ট্যানারিশিল্পের পরিবেশগত বাধ্যবাধকতা রক্ষা করে গুণগত মানসম্পন্ন চামড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করতে পারি, তবে রপ্তানিও বাড়বে এবং দেশে বিদেশ থেকে চামড়া আমদানির প্রয়োজন হবে না। এদিকেই আমাদের মনোযোগী হওয়া উচিত।

আরো খবর...