ঘূর্ণিঝড়ের বিরুদ্ধে এবারও একাই লড়বে ‘সুন্দরবন’

ঢাকা অফিস ॥ গত বছর দুটি বড় ঘূর্ণিঝড় ‘ফনী’ ও ‘বুলবুল’ আছড়ে পড়েছিল বাংলাদেশের উপকূলে। দুবারই ঘূর্ণাবর্তের দাপট রুখে দিয়েছিল বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময় সুন্দরবন। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’র বিরুদ্ধে এবারও একাই লড়বে সুন্দরবন। সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবনকে বিবেচনা করা হয়। দশ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে। ভারতের মধ্যে রয়েছে বাকি অংশ। বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসা যেকোনো মাত্রার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই বনভূমি বুক পেতে দিয়ে দেশকে রক্ষার চেষ্টা করেছে। ‘আম্ফান’র গতিপথ বলছে, এবারও সুন্দরবনই পদাতিক সৈন্যের মতো প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দিয়ে ঝড়টিকে দুর্বল করে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে স্থলভাগে ঝড়টি দাপট কমাতে বাধ্য হবে। আবহাওয়া অধিদতফরের পরিচালক সামছুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘ঝড়-বাতাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বৃক্ষেরা সমসময়ই বুক পেতে দেয়। আম্ফান যদি খুলনা অঞ্চল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে তাহলে সুন্দরবন বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে। যেকোনো মাত্রার ঝড়কে দুর্বল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে সুন্দরবন।’ এদিকে আম্ফান আপাতত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যা উপকূলের আরও কাছে চলে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এটি উড়িষ্যা উপকূল থেকে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। এই সময়ে ঝড়টি বাংলাদেশের পটুয়াখালীর খেপুপাড়া থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, এখন পর্যন্ত আম্ফানকে দ্বিতীয় ‘সুপার সাইক্লোন’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর আগে ১৯৯৯ সালের উড়িষ্যা সাইক্লোনটিও পেয়েছিল সুপারের মর্যাদা। স্থলভাগে আঘাত করার সময় এর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার। এদিকে ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ, কাকদ্বীপ ও সুন্দরবন এলাকায় বেশি তা-ব চালাবে। এর প্রভাবে আজ বুধবার পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও কলকাতায় তুমুল বৃষ্টিপাত হবে। একই অবস্থা থাকবে বাংলাদেশের খুলনা, যশোর ও বরিশাল অঞ্চলে। উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের বাংলাদেশে আঘাত করা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৪ কিলোমিটার। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের সর্বোচ্চ গতিবেগ ২২৩ কিলোমিটার। আম্ফান ঘূর্ণিঝড়টি এরইমধ্যে সেই গতিবেগ ছাড়িয়ে গেছে। তাই এটি যদি সরাসরি দেশের উপকূলে আঘাত হানে তাহলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে।

আরো খবর...