ঘুষের লাখ টাকাসহ সাব রেজিস্ট্রার ও অফিস সহকারী গ্রেফতার

কুষ্টিয়া জেলা রেজিষ্ট্রি অফিসে দুদকের হানা

নিজ সংবাদ ॥ ঘুষের লাখ টাকাসহ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ও অফিস সহকারীকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নিজ অফিস কক্ষে ঘুষ লেনদেনের সময় ঘুষের ১ লাখ টাকাসহ তাদের হাতেনাতে আটক করেছে দুদক। আটককৃতরা হলেন কুষ্টিয়া রেজিষ্ট্রি অফিসের সদর সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ ও তার অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম। গতকাল বৃহষ্পতিবার দুপুর ১টায় সমন্বিত জেলা দুদক কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রি অফিসে ঘন্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে ঘুষের এক লাখ ৪ হাজার ৪শত টাকাসহ তাদের আটক করে দুদকের অভিযানিক দল। এ সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্্েরট পার্থ প্রতীম শীল, কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিনসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

এঘটনায় দুদক কুষ্টিয়া কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন বাদি হয়ে দ:বি: ১৬১/১৬৫(ক)/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ এনে একটি নিয়মিত মামলা করেন দুদক কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক দপ্তরে। মামলা নং ০২ তারিখ: ০৭/১১/২০১৯।

দলিল প্রতি অতিরিক্ত টাকা ঘুষ গ্রহনের অভিযোগে আটক সদর সাব- রেজিষ্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ এবং অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুলের বিরুদ্ধে করা দুদকের মামলায়  গ্রেফতার দেখিয়ে বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

গ্রেফতার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাব রেজিষ্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ (৪৪) যশোর মনিরামপুর জয়পুর গ্রামের মৃত: দুর্গাপদ সিংহের ছেলে এবং অফিস রফিকুল ইসলাম মুকুল(৪৮) কুষ্টিয়া সদর উপজেলা হাটশ হরিপুর গ্রামের মৃত: নুর মহম্মদের ছেলে।

সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ছিল কুষ্টিয়া রেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল সেখানে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দলিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেয়া হয়। সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার এই অনৈতিক কর্মকান্ডে অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুলের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে আসছিলেন। বৃহষ্পতিবার সকালে আমাদের কাছে হঠাৎ সংবাদ আসে, সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ  থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি দুদক সদর দপ্তরকে তাৎক্ষনিক অবহিত পূর্বক অভিযানের অনুমতি সাপেক্ষে এখানে অভিযান চালান হয়। এসময় সাব-রেজিষ্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ ও অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম মুকুলকে ঘুষ হিসেবে গৃহীত টাকাসহ হাতে নাতে আটক করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামীদ্বয় সরকারী কর্মচারী হয়ে অপরাধমূলক অসদাচরন ও অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজসে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল সম্পাদনে আগত দলিল দাতা ও গ্রহীতার নিকট থেকে দলিল প্রতি সরকারী নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করে মামলায় উল্লিখিত ধারায় অপরাধ সংঘটন করেছেন। আসামীদের নিকট থেকে জব্দকৃত ১লক্ষ ৪হাজার ৪শত টাকা চলতি সপ্তাহে সম্পাদিত দলিলদাতা ও গ্রহীতাদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে বলে অফিস সহকারী রফিকুল ইসলামের দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানা যায়। দুদকের অভিযানকালে অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম এই টাকা সাব রেজিষ্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহের কাছে হস্তান্তর করাকালে হাতে নাতে দুদক ধরে ফেলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামীদ্বয়কে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কুষ্টিয়া ভারপ্রাপ্ত (জেলা ও দায়রা জজ) সিনিয়র স্পেশাল জজ মো: তহিদুল ইসলামের আদালতে সৌপর্দ করলে আদালত শুনানী শেষে তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আরো খবর...