গড় আয়ু বৃদ্ধি গুণগত জীবন নিশ্চিত হোক

বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু আরও কিছুটা বেড়ে ৭২ দশমিক ৬ বছর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএস। পরিসংখ্যান ব্যুরো পরিচালিত ‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) ৩য় পর্যায়’ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত জরিপের ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ ক্ষেত্রে বলা দরকার, এর আগে ২০১৮ সালের জরিপে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু পাওয়া গিয়েছিল ৭২ দশমিক ০৫ বছর। জানা যাচ্ছে, এবারের জরিপে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেড়ে ৭১ দশমিক ১ বছর এবং নারীদের ৭৪ দশমিক ২ বছর হয়েছে।  যেখানে আগের জরিপে পুরুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ৬ বছর; আর নারীদের ৭৩ দশমিক ৫ বছর। আমরা বলতে চাই, যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ধারাবাহিকভাবেই বাড়ছে তখন বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক বাস্তবতাকেই স্পষ্ট করে। কেননা, এটা আমলে নেওয়া সমীচীন, শিশুমৃত্যুর হার কমে আসায় এবং দেশে জটিল রোগের চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়াকে এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে শিশুমৃত্যু কম হওয়া, জটিল রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ার মধ্যদিয়ে যদি গড় আয়ু বাড়ে তবে বিষয়টি সুখকর। একইসঙ্গে সংশি¬ষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, এগুলো আমলে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখা। প্রসঙ্গত আমরা বলতে চাই, ষাটের দশকের শুরুতে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৪৬ বছর। আর এখন এসে সেই গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৬ বছরে উন্নীত হয়েছে। ফলে এই গড় আয়ু বৃদ্ধির বিষয়টি বাংলাদেশের মতো জনসংখ্যবহুল দেশের জন্য স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধে সরকার গৃহীত কার্যকর পদক্ষেপের সুফল হিসেবে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। আমরা বলতে চাই, এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে সরকারের বিভিন্ন সময়ের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সুপরিকল্পিত উদ্যোগের যথাযথ বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাপক সাফল্য অর্জন করায় জাতিসংঘ কর্তৃক পুরস্কৃতও হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ এখন  পোলিওমুক্ত দেশ। আর সচেতনতা বৃদ্ধিসহ নানামাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিশ্চিত করার মধ্যদিয়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যেমন নিম্নমুখী, তেমনিভাবে মৃত্যুরোধ হওয়ায় গড় আয়ুও বাড়ছে- যা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিশ্চিত করতে হবে সংশি¬ষ্টদেরই। আমরা মনে করি, পুষ্টিকর খাদ্য, ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলার অপেক্ষা রাখে না, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসা অপরিহার্য; কিন্তু দীর্ঘ জীবনের জন্য এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিচর্যার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বব্যাপী বতর্মানে গুণগত স্বাস্থ্য বা জীবন এবং সংখ্যাগত জীবন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। শুধু গড় আয়ু বাড়ানো মুখ্য নয়, বরং গুণগত জীবনের প্রতি বেশি গুরুত্ব  দেয়া স্বাভাবিকভাবেই জরুরি বিষয়। বলাই বাহুল্য, মানুষের আয়ু বেশি হলে সমাজে অবদান রাখার পরিমাণ বাড়ে। কিন্তু স্বাস্থ্যের গুণগত মান ভালো না হলে গড় আয়ু বেশি হলেও ভালো ফল পাওয়া দুষ্কর। ফলে গড় আয়ু বৃদ্ধির এ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে গুণগত জীবন নিশ্চিত করতে সংশি¬ষ্টদের ভাবতে হবে এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও তার যথার্থ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পথ পরিক্রমায় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবতর্ন এসেছে, দেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি এরই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এখন- যখন জানা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু আরও কিছুটা বেড়ে ৭২ দশমিক ৬ বছর হয়েছে, তখন এই বিষয়টি আমলে নিয়ে জীবনের গুণগতমান নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি রাখতে হবে। স্বাস্থ্য খাতসহ দেশের নানান খাতের সফলতা আমাদের জীবন প্রত্যাশাকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।  দেশের মানুষের জীবনমান আরও উন্নতির দিকে এগিয়ে নেয়া  গেলে আয়ু বৃদ্ধির সুফলকে কাজে লাগানো যাবে- যা নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।

 

আরো খবর...