গ্রীণ ভ্যালি পার্কে বসেছিল কুষ্টিয়ার সর্বশ্রেণীর মানুষের মিলনমেলা

জেলা প্রশাসনের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ও জমকালো বনভোজন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাৎসরিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার নাটোর জেলার লালপুরে অবস্থিত গ্রীণ ভ্যালি পার্কে বাৎসরিক এ বনভোজনের আয়োজন করা হয়। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলা প্রশাসনের এই পিকনিক সর্বশ্রেণীর মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে জমকালো এবং সর্ববৃহৎ বনভোজন। সকাল সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের যাত্রা শুরু হয় নাটরের লালপুরস্থ গ্রীণ ভ্যালি পার্কের উদ্দেশ্যে। পিকনিকে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সকালের নাস্তার ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসন। সাড়ে ১০টার মধ্যে অতিথিসহ সকলেই পৌছে যান সেখানে। জেলা প্রশাসনের বনভোজন আয়োজক কমিটির অধিকাংশ সদস্য শুক্রবার সেখানে গিয়ে পৌছে যায়। তারা অংশগ্রহণকারীদের খাবার প্রস্তুতের কাজে নিয়োজিত ছিল। জেলা প্রশাসকসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তাদের সহধর্মীনি ও সন্তানদের নিয়ে ড্রিম ভ্যালি পার্কে পৌছার পর শুরু হয় বনভোজনের মূল কার্যক্রম। বনভোজন মঞ্চে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে বেশীর ভাগ শিল্পীই ছিল জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার নাহিদ হাসান খান একাই মাতিয়ে রাখেন দর্শকদের। মনকাড়া সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃণাল কান্দি দে ও স্ত্রী। সকাল থেকে বিকেল ৫টায় লটারীর ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত চলে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।   স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃণাল কান্দি দে’র মেয়ের নৃত্য পরিবেশন দেশে মুগ্ধ হয়ে তাকে নগদ উপহার দেন জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। এর ফাকে ফাকে চলে ক্রীড়ানুষ্ঠান। দু’গ্র“পের শিশুদের চকলেট দৌড়, অফিস কর্মচারীদের বাসকেটে বল ফেলা, অতিথিদের হাড়ি ভাঙ্গা প্রতিযোগিতা। জেলা প্রশাসনের এই আনন্দময় আয়োজন উপভোগ করেন অংশগ্রহণকারী সকলেই। তারা জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন সহ যারা এই আয়োজনের সাথে জড়িত তাদেরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বার্ষিক বনভোজনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলাম, নাটোরের জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়াজ, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ গোলাম সবুর, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া জজ কোর্টের বিজ্ঞ পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ, বিজ্ঞ জিপি আ.স.ম আখতারুজ্জামান মাসুম, ভেড়ামারা উপজেলা চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান মিঠু, দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ মামুন, কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ও সচেতন নাগরিক কমিটি কুষ্টিয়ার সভাপতি রফিকুল ইসলাম টুকু, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক মৃণাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (সার্বিক) আজাদ জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জুবায়ের চৌধুরী, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী জেরিন কান্তা, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, দৌলতপুর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার আজগর আলী, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার নাহিদ হাসান খান, নাটোরের লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি, কুষ্টিয়া সমিতি ঢাকার সভাপতি এম এ সালাম, মহাসচিব ও দিশার নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চ্যানেল আই কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, বাসস কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ও কুষ্টিয়ার কাগজ পত্রিকা সম্পাদক নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তারিকুল হক তারিক, দৈনিক মাটির ডাক পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ বিশ্বাস, সময়ের কাগজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক নুরুন্নবী বাবু,  প্রথম আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান, দৈনিক মাটির পৃথিবীর সম্পাদক-প্রকাশক এম এ জিহাদ, ডেইলি অবজারভার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি পিএম সিরাজ, দৈনিক দিনের খবর পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু, যমুনা টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মাহাতাব উদ্দিন লালন, বাংলা টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি লিটন উজ্জামান, সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার সভাপতি রাশিদুল ইসলাম বিপ্লবসহ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী জেলা প্রশাসনের এই বনভোজন এক মিলন মেলায় পরিনত হয়। দুপুরের খাবারের পর আবারও শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর অনুষ্ঠিত হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরনী। পুরস্কার তুলে দেন জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন ও তার সহধর্মীনি। বনভোজনের মূল আকর্ষণ পর্ব র‌্যাফেল ড্র শুরু সোয়া ৪টা নাগাদ। ৪০টি পুরস্কার প্রদান করা হয় এই লটারীতে। লটারীর টিকিট ক্রয়কারী সকলেই অধির আগ্রহে সেখানে উপস্থিত থেকে তাদের ক্রয়কৃত টিকিটে পুরস্কার পেয়েছে কিনা তা দেখতে। বিকেল ৫টায় সমাপণী বক্তব্যের মধ্যদিয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বার্ষিক ভোজনের ইতি টানেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলকে দিনব্যাপী আয়োজনে অংশগ্রহনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি যারা এ আয়োজন সফল করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং যে সব অতিথি শত ব্যস্ততা ফেলে মূল্যবান সময় দিয়ে বনভোজনকে সার্থক ও সফল করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এনডিসি মুসাব্বিরুল ইসলাম।

আরো খবর...