গ্রাম পুলিশ আটক আর এক ভাই পালাতক

খোকসায় বিধবা ও স্কুল ছাত্রীকে জিম্মি করে ধর্ষনের অভিযোগ

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসার গ্রামে বিধবা মা ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী মেয়েকে জিম্মি করে এক গ্রাম পুলিশ ও তার ভাই প্রায় ১ বছর ধরে ধর্ষন করে আসছে বেল অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষিত মা মেয়ে ও ধর্ষক গ্রাম পুলিশকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে প্রায় ১৮ ঘন্টা সামনা-সামনি বসিয়ে রাখার পর ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনার এজাহার নিয়েছে। ধর্ষিত মা ও মেয়ে জানায়, উপজেলার ১ নম্বর খোকসা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ মুক্তার হোসেন মোড়াগাছা গ্রামের এক বিধবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় ১ বছর ধরে ধর্ষন করে আসছে। এই সুযোগে গ্রাম পুলিশের আপন ভাই মাহাবুল আলম টিক্কা বিধবার ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুল পড়–য়া মেয়েকেও গত সপ্তাহ পর্যন্ত কয়েকবার ধর্ষন করে। ধর্ষিতরা বিষয়টি পরিবারের লোকদের জানালে রবিবার তার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করে। ওই কর্মকর্তা বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ভুক্তভোগী মা মেয়েকে থানায় পাঠায়। রাত সাড়ে আটটার দিয়ে ধর্ষক গ্রাম পুলিশকে জিজ্ঞাসা বাদ করার জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। সোমবার বিকালে ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনায় একটি মামলার এজাহার থানা নিয়েছে পুলিশ। তবে মাকে ধর্ষনের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়নি বলে বিধবা অভিযোগ করেন। আজ মঙ্গলবার স্কুল ছাত্রীর ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হতে পারে বলে পরিবার জানায়। ধর্ষিত স্কুল ছাত্রীর চাচা ওয়াজেদ আলী জানান, টানা দুই দিন তদবিরের পর স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনার এহাজার পুলিশ  নিয়েছে। তবে ছাত্রীর বিধবা মাকে ধর্ষনের বিষয়ে মামলা নেওয়া হয়নি। একটি মামলায় গ্রাম পুলিশ ও তার আপন ভাইকে আসামী করেছে। তবে বাদির চাওয়া অনুয়ায়ী মামলা নেওয়া হয়নি বলে তিনিও অভিযোগ করেন। খোকসা ইউনিয়নের এক মেম্বর ধর্ষকদের পক্ষ নেওয়া বিধবা ও স্কুল ছাত্রী মেয়ে ধর্ষনের বিচার বিলম্বীত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে জামাই আদরে বসিয়ে রাখা গ্রাম পুলিশ মুক্তার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে। সে স্বীকার করে বিধবার সাথে তার পরকিয়া ছিল। চাকুরিচ্যুত করার জন্য তার বিরুদ্ধে গ্রাম চক্রান্ত করা হচ্ছে।  ইউনিয়ন পরিষদের মেয়ারম্যান আয়ুব আলী বিশ্বাসের সাথে কথা বলা চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। রবিবার রাতে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম মেহেদী মাসুদ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রাম পুলিশকে থানায় আনা হয়েছে। পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বিস্তারিত জানাবেন। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানান নি।

আরো খবর...