গাংনীতে হারিয়ে যাওয়া কলের গান সংরক্ষণ রেখেছেন কৃষক ইদ্রিস আলী

সাহাজুল সাজু ॥ হারিয়ে যাওয়া বিদ্যুতবিহীন যন্ত্রের নাম কলেরগান বা গ্রামোফোন। যা আর চোখেই পড়ে না। কিন্তু একটা সময় ছিল গ্রামোফোন মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। যা ব্যবহার করতো এলাকার সৌখিন মধ্যবিত্ত সমাজের মানুষ। মানুষের আভিজাত্য ও মর্যাদার প্রতীক হিসাবে এটিকেই মূল্যায়ন করা হতো। কলেরগান হলো আধুনিক রেকর্ড প্লেয়ার, স্টেরিও এবং সিডির পূর্বরূপ। গান শোনার এই যন্ত্রটি চালাতে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগের প্রয়োজন হতো না। হাতল ঘুরিয়ে থাকা স্প্রিং এবং কয়েলের সাহায্যে বিশেষ ব্যবস্থায় এটিকে চালানো হতো। অনেকটা আগের দিনে ঘড়ির চাবি দেয়ার মতো। সময়ের বিবর্তনে এই বিশেষ যন্ত্রটি আজ দু®প্রাপ্য হয়ে গেছে। তবে কালজয়ী গানগুলোর অন্যতম সাক্ষী হয়ে ইতিহাসে মর্যাদার সোনালী অক্ষরে লেখা রয়েছে গ্রামোফোন বা কলেরগানের নাম। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের বানিয়াপুকুর গ্রামের মৃত পিরিজ উদ্দীনের ছেলে সাংস্কৃতিক মনা ব্যক্তিত্ব ইদ্রিস আলী স্মৃতিময় দিনগুলো ধরে রাখতে স্বযতেœ সংগ্রহ করে রেখেছেন তার এ কলেরগানটি। এ প্রসঙ্গে ইদ্রিস আলী জানান ব্রিটিশ আমল থেকেই আমার দাতা এ কলেরগানটি কিনে ছিলেন। সে থেকে তিন পুরুষ যন্ত্রটি স্বযতেœ রেখেছি। আগেকার দিকে আশেপাশে ১০-১২টি গ্রাম খুঁজলেও কলেরগান পাওয়া যেতোনা। এ এলাকায় একমাত্র আমাদেরই এ কলেরগান ছিল। গানপ্রিয় আশেপাশের মানুষ আমাদের বাড়িতে গান শুনতে আসতো। তখন হাটু-কাঁদা পার হয়ে গুনী শিল্পীদের হৃদয়  ছোয়া গান শুনতে আসতো। এখনকার আধুনিকতার ছোয়া লাগা গানগুলো আগেকার গানের মতো মন ছোয়ায় না। আধুনিক এ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে গান শোনার বিভিন্ন মাধ্যম আসার কারণে কেউ আর কলেরগান শুনতে আসে না। তারপরও আমাদের কলেরগানটি কিছুদিন আগে বিকল হয়ে গেছে। এটি মেরামত বা যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এটি মেরামত করার জন্য ভারতে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

আরো খবর...