গাংনীতে ভাড়াটে লাঠিয়াল দিয়ে জমি জবরদখলের অভিযোগ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলার গাংনীতে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বেআইনীভাবে নিজ নামীয় জমি কাগজপত্র ছাড়াই ভাড়াটে সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গাংনী উপজেলার ভোলাডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া গ্রামের প্রভাবশালী প্রতিপক্ষ মৃত তাইজেল আলীর ছেলে আনারুল, মৃত হিদায়েত আলীর ছেলে হক সাহেব ও মৃত রফজেল আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন ভাড়াটে সন্ত্রাস বাহিনী নিয়ে কোদাইলকাটি  গ্রামের মৃত আতর আলী ও মৃত কায়েমউদ্দীনের ওয়ারিশ শামসুল আলম ও আব্দুস সালাম দিং বিনিময় কালীন হিন্দুদের ক্রয়কৃত জমি জবর দখলের ঘটনা ঘটেছে। বেআইনীভাবে কোন রকম মালিকানা না থাকলেও ইজারাদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন পূর্বের  কোদাইলকাটি মৌজার জমি সিএস, খতিয়ান নং-৪৪৩,  এসএ,খতিয়ানের ১৭৬০, ১৭৬১ ও ১৭৬৫ দাগ যাহা  ও আরএস খতিয়ান ৮০ এর দাগ নং ২৭১২,২৭১৩ ও ২৭১৪ খোশকবলা দলীল মূলে  রেজিষ্ট্রী ও রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে খারিজ-খাজনা চলমান রয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধ  মিমাংসা করতে সম্প্রতি কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পে উভয় পক্ষকে নিয়ে সামাজিক শৃংখলা রক্ষায় মুচলেকা নেয়া হয়েছে। তারপরও প্রতিপক্ষ হক সাহেব , আনারুল  ও দেলোয়ার  নামের কতিপয় ব্যক্তি আইন অমান্য করে লোকজন নিয়ে ২৭১২ দাগে ৪০ শতক, ২৭১৩ দাগে ৪৬ শতক ও ২৭১৪ দাগে ৫০ শতক  জমি জবরদখল করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার  কোদাইল কাটি গ্রামের মৃত আতর আলী ও মৃত কায়েমউদ্দীন বিশ্বাস  ৫০ এর দশকে হিন্দু সম্পত্তি তৎকালীন মধূসুদন এর নিকট থেকে ১৭.৩১ শতক জমি ক্রয় করেন। পাশাপাশি মধূসুদনের অন্য শরীক সীতানাথ বিশ্বাস ও রশিকনাথ বিশ্বাসদের অংশ থেকে বিবাদীগণের বাপ-চাচারা ২.৬৭ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সেই ক্রয়কৃত ২.৬৭ শতক জমি বিক্রয় করে দেয়। ফলে উক্ত জমিতে তাদের আর কোন শর্ত অবশিষ্ট থাকে না।  তারপরেও গায়ের জোরে জমি জবরদখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন জমি আতর আলী ও কায়েমউদ্দীনের ওয়ারিশদের দখলে থাকলেও  বিবাদীরা তার ভাড়াটে দাঙ্গাবাজ,লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে  সম্প্রতি মাঠে মহড়া দিয়ে জমি জবরদখল করেছে। এদের বিরুদ্ধে নানাভাবে হয়রানি করাসহ জমি-জমা জবরদখলের  আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে  আব্দুস সালাম ও শামসুল আলম জানান, আমার বাবা আতর আলী ও কায়েমউদ্দীন বিশ্বাস  হিন্দুদের সম্পত্তি ক্রয় সূত্রে দলিল করে ভোগ দখল করে আসছে। আমরা দলিল মোতাবেক খারিজ করে খাজনা দিয়ে আসছি। পক্ষান্তরে  ভোলাডাঙ্গা গ্রামের একদল ভূমি গ্রাসী আমাদের জমি জবর দখল করেছে। তাদের কোন  বৈধ কাগজপত্র নাই। দাঙ্গাবাজরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমাদের জমির ইজারাদারদের নিয়ে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। প্রতিপক্ষ আনারুল ইসলাম জানান, আমার বাপ-চাচারা হিন্দদের সাথে ২ একর ৬৭ শতক জমি ক্রয় করেছিলেন।  সে সময় আমাদের বাদ বাকী জমি রক্ষনাবেক্ষণের জন্য দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন। সে ব্যাপারে আমাদের তৎকালীন দলিলে উল্লেখ রয়েছে। সে কারণে উইল মোতাবেক আমরা জমি বুঝে নিতে চাই। তবে আমাদের কোন কাগজপত্র নাই। তবে আমাদের নামে আরএস রেকর্ড বা খারিজ-খাজনা হয়নি। আমরা শুনেছি এ ব্যাপারে গাংনী থানায় একটি এজাহার করা হয়েছে। আমরা থানায় কাগজ পত্র দেখাবো।  এ ব্যাপারে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, কোদাইলকাটি গ্রামের  পক্ষ থেকে লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে  উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে সুষ্ঠু সমাধান দেয়া হবে।

আরো খবর...