গতি এলো বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্যে, শুরু হলো রেল কন্টিনার বাণিজ্য

ঢাকা অফিস ॥ গতি এলো বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্যে। রেল কন্টিনারের মাধ্যমে বেনাপোল বন্দর দিয়ে শুরু হলো রেল কন্টিনার বাণিজ্য। ৫০টি রেল কন্টিনার নিয়ে শুক্রবার ভারত থেকে রওনা হয়ে গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে বেনাপোল বন্দর এলাকায় প্রবেশ করেছে। রেল কন্টিনার বেনাপোল আসার পর সাইড ডোর রেল কন্টিনার থেকে আমদানি পণ্য বাংলাদেশী ট্রাকে খালাস করে বেনাপোল বন্দরের সেডে রাখা হয়েছে। পরে কায়িক পরীক্ষণ ও কাস্টমস থেকে শুল্কায়নের কাজ সম্পন্ন করে পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাবে। রেল কন্টিনারের শুভ উদ্বোধন করেন বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার জনাব আজীজুর রহমান। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, বেনাপোলের বিপরীতে পেট্রাপোল বন্দরে সিন্ডিকেট সদস্যদের অরাজকতা ও সিরিয়ালের নামে ইচ্ছামতো চাদা বাজির কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমাদানি বাণিজ্য কমে যাওয়ায় ভারত থেকে রেল কন্টিনারে আমদানি বাণিজ্য চালুর করার জন্য বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অবহিত করেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যাচায় বাচায় করে রেল কন্টিনারে বাণিজ্যের অনুমতি প্রদান করে। পরে রেল কন্টিনারে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য চালু করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রাণালয়কে পত্রের মাধ্যমে জানান। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জাতীয় বোর্ডের এ ধরনের প্রস্তাবকে স্বগত জানায় এবং সে অনুযায়ী রেল কন্টিনারে বাণিজ্যের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। উভয় দেশের সম্মতিতে গতকাল রোববার দুপুরে ৫০টি রেল কন্টিনারে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। রেল কন্টিনার চালুর ফলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বৃদ্ধির সাথে সাথে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে। আমদানিকারক আনোয়ার আলী আনু জানান, করোনাভাইরাসের অজুহাত দেখিয়ে বনগা তৃনমূল কংগ্রেস সমর্থিত নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রাখে। অনেক আলোচনা ও বৈঠকের পর ১ জুন থেকে পূনরায় দুদেশের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য শুরু হলেও বনগা কালিতলা পার্কিয়ে সিরিয়ালের নামে ট্রাক প্রতি মোটা অংকের চাদাবাজির কারণে আমদানি বাণিজ্যে গতি ফিরে আসেনি। তাদের অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেল কন্টিনার বাণিজ্য চালু করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পত্র লেখেন। ব্যবসা ও দেশের রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে রাজস্ব বোর্ড রেল কন্টিনারে আমদানি বাণিজ্য চালুর অনুমতি প্রদান করেন এবং ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন রেল কন্টিনারে আমদানি চালুর ব্যাপারে। উভয় দেশের সম্মতিতে গতকাল রোববার ৫০টি সাইড ডোর কন্টিনার নিয়ে একটি ট্রেন বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। এসব কন্টিনার থেকে পণ্য আনলোড করে বন্দরের সেডে রাখা হচ্ছে। পরে শুল্কায়নের কাজ সম্পন্ন হলে পণ্যগুলি গন্তব্যে চলে যাবে। গতকাল ৫০টি কন্টিনারে ৮ জন আমদানিকারকের কসমেটিক্স সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এসেছে। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে রেল কন্টিনার বাণিজ্য শুরু হওয়ায় বাণিজ্যে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। বেনাপোলের বিপরীতে পেট্রাপোল বন্দরে সিন্ডিকেট সদস্যদের অত্যাচার কমবে। পেট্রাপোল বন্দরে পন্যজট থাকবে না। এখন এক ট্রাক আমদানি পণ্য বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ দিন। তারপর ও মোটা অংকের টাকা দিতে হয় বনগা পৌর সভাকে। রেল কন্টিনার চালুর ফলে পেট্রাপোল বন্দরে কোনো পনণ্যজট থাকবে না। রেল কন্টিনারে অধিকাংশ পণ্য আসবে বলেই পেট্রাপোল বন্দরে চাপ কমে যাবে। তখন সড়ক পথে পণ্য আমদানি হতে সময় লাগবে এক বা দুদিন। এতে আমদানিকারক আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন। তিনি আরো বলেন, বেনাপোল বন্দরে কন্টিনার টার্মিনাল করা হলে এ বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বাণিজ্য দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। আর আমদানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলে সরকার এ কাস্টমস হাউস থেকে আগামী বছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে। বাংলাদেশ রেলের ডিবিশনাল কর্মাশিয়াল কর্মকর্তা (পাকশি) জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে আজ (গতকাল) প্রথম রেল কন্টিনার বাণিজ্য শুরু হলো। কোলকাতা থেকে বেনাপোলের দূরত্ব কম হওয়ায় রেল কন্টিনারে আমদানি করলে আমদানিকারকের সময় অনেক কম লাগবে ও অর্থনৈতিক সাশ্রয় হবে। তবে বেনাপোল বন্দরে কন্টিনার টার্মিনাল করা হলে বাণিজ্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতো। সাথে সাথে সরকারের রাজস্ব আদায় ও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার আজীজুর রহমান বলেন, রেল কন্টিনার চালুর ফলে বেনাপোল বন্দরে নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানীতে গতিশীলতা বাড়বে। সরকারের রাজস্ব আদায় ও বৃদ্ধি পাবে।

আরো খবর...