গণমাধ্যমের ক্রান্তিকাল

গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যমের মাধ্যমেই দেশব্যাপী ঘটা অপরাধজনক কর্মকা  ও সম্ভাবনাসহ সব খবর জানতে পারে নাগরিক সমাজ। সামাজিক অপরাধরোধে গণমাধ্যম সবসময়েই অগ্রণী ভূমিকা  রেখে এসেছে এবং এখনো রাখছে। তবে কোভিড-১৯ এর প্রভাবে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত দেশ, তার প্রভাব পড়েছে গণমাধ্যমেও। ইলেকট্রনিক মিডিয়াতেও করোনার প্রভাবে খারাপ সময় চললেও বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়া করোনাকালে ক্রান্তিকাল পার করছে। করোনার হানায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বহু পত্রিকা তাদের প্রকাশনা বন্ধ রেখেছে। বহুল প্রচারিত অনেক পত্রিকাও নিয়মিত যত পাতায় পত্রিকা প্রকাশ করত, করোনাকালে পাতা কমিয়ে এনে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশে বাধ্য হয়েছে। সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ অর্থনৈতিক। করোনার ক্রান্তিকালে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিজ্ঞাপন না পাওয়াই প্রকাশনা বন্ধের অন্যতম কারণ। এই সময়ে হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকা ব্যতীত অন্যান্য পত্রিকার সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও ঠিকমতো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এই অচলাবস্থা এখনো বিদ্যমান আছে। লকডাউন তোলে দেয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকলেও প্রিন্ট মিডিয়ার অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবাদপত্র দাঁড়িয়ে আছে নানা সহায়ক শক্তির ওপর। প্রচারসংখ্যা ও বিজ্ঞাপনের ওপরই মূলত নির্ভর করে গণমাধ্যমের উঠে দাঁড়ানো এবং টিকে থাকে। কিন্তু করোনাকালে অর্থনৈতিক মন্দায় সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। গণমাধ্যমের ক্রান্তিকালের সুযোগটা নিচ্ছে অপরাধীরা। বিভাগীয় শহর কিংবা জেলাভিত্তিক পত্রিকাগুলোর প্রকাশনা বন্ধ থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে সেসব পত্রিকায় কাজ করা সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করছেন না। এছাড়াও বহুল প্রচারিত পত্রিকাগুলোর মধ্যে অনেক পত্রিকা পৃষ্ঠা কমিয়ে প্রকাশ করছে। ফলে সমাজভিত্তিক অপরাধজনক ঘটনাগুলোর অধিকাংশই আড়ালে থাকছে। বাংলাদেশে দৈনন্দিন বহু অপরাধজনক ঘটনা ঘটছে, যেসব মিডিয়ায় প্রকাশের পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে। এছাড়াও সমাজে ঘটে যাওয়া ভালো-মন্দ ঘটনা, সম্ভাবনাসহ সব সংবাদই মিডিয়ায় প্রচারের পর আলোচনায় আসে, প্রতিকার পায় ভুক্তভোগী, প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা হয়। প্রতিভাবান ব্যক্তিরাও মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের কাজগুলো তুলে ধরতে পারেন। তবে আশার কথা করোনার প্রকোপ এখনো না কমলেও মানুষজন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হচ্ছে। মহামারির কাছে হেরে না গিয়ে কর্মমুখর হচ্ছে প্রতিটি মাধ্যম। দেশের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে মত্ত। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে গণমাধ্যম এর কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হবে, সেই প্রত্যাশা।

আরো খবর...