খোকসা ধোকড়াকোল ডিগ্রি কলেজের সভাপতি আবু তালেবের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

খোকসা প্রতিনিধি ॥ আবু তালেব ধোকড়াকোল ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পর্ষদ’র সভাপতি। ২০১২ সাল থেকে অদ্যবধি এই পদে দায়িত্বে রয়েছেন। কুষ্টিয়া ৪ আসনের সাবেক সাংসদ সুলতানা তরুনের সময়ে ঐতিহ্যবাহী প্রাতিষ্ঠানে এই পদ বাগিয়ে নেন। পরবর্তিতে আব্দুর রউফ  এবং সবশেষ সেলিম আলতাফ জর্জের আমলেও সেই একই দায়িত্বে তিনি। প্রশ্ন হচ্ছে প্রায় ৮বছর দায়িত্বে থাকা এই সভাপতি দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কিইবা করেছেন? হ্যা উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই তবে প্রতিষ্ঠানের নয়, নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিয়োগ বাণিজ্য করে বহু টাকা কামিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে সর্বমোট ২৬জন নিয়োগ দিয়েছেন। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় বিজ্ঞানে ৩ ও আইসিটি বিভাগে ১জন নিয়োগ। নিয়োগ দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। কারণ ওই নিয়োগ বিজ্ঞাপনের অনুমোদন ছাড়াই বাস্তবায়ন করেছেন।  আর হেডক্লার্ক আবু মুসা অবসরে না গেলেও তার বিপরিতে তারই ভাতিজাকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করাচ্ছেন। উদ্দেশ্য ওই পদে নিয়োগ দেয়া। এসব নিয়োগে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই প্রভাবশালী সভাপতি। সব সংসদ সদস্যকে ম্যানেজ করেই তার অপকর্ম জায়েজ করেন বলে কথিত রয়েছে। তবে বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের কাছে পাত্তা পাচ্ছেননা বলে জানা গেছে। কারণ কোন প্রকার অনিয়মকে তিনি সহ্য করছেননা। এবিষয়ে ধোকড়াকোল ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক আহসান হাবিব জানান সভাপতি আবু তালেব অত্যন্ত প্রভাবশালী। তার আমলে যেসব নিয়োগ দিয়েছেন তা নিয়মতানিস্ত্রক উপায়ে দেননি। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম চলছে নিয়মের বাইরে। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফেরাতে সভাপতি পরিবর্তন জরুরী বলে মনে করেন তিনি।

কম্পিউটার শিক্ষক বাহারুল আলমেরও একই অভিযোগ। তার দাবী শুধুমাত্র সভাপতি পদ পরিবর্তন হলেই শৃঙ্খলা ফিরবে ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের। তবে তিনি সাংসদ সেলিম আরতাফ জর্জ প্রসঙ্গে বলেন তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কলুষমুক্ত করতে বদ্ধ পরিকর।   এদিকে সভাপতি হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব নেয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ অভিভাবক শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

 

আরো খবর...