খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন আজ

উপদলীয় কোন্দলের বহিঃপ্রকাশের শঙ্কায় নেতা কর্মীরা

খোকসা প্রতিনিধি ॥ শঙ্কা আর সম্ভাবনা নিয়ে সাত বছর পর আজ  সোমবার কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে। দ্বিধা-বিভক্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক পদসহ প্রধান নেতৃত্ব নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এই উপজেলা সম্মেলনের মধ্যে জেলার রাজনীতির সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কেন্দ্র করে খোকসা জানিপুর সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ সজ্জিত করার কাজ শুরু হয় প্রায় এক সপ্তাহ আগে। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়ক, খোকসা-জানিপুর বাজারের প্রধান সড়ক ও আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জাতীয় ও স্থানীয় নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার প্লাকার্ড ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। প্রায় ডজনখানেক  তোরণ নির্মান করা হয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষনা নিয়ে শঙ্কার মধ্যেও সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছে দলের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা। তবে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উপদলীয় কোন্দলের বহিঃপ্রকাশের শঙ্কার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছেন অনেক নেতা।

এ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি নির্বাচন নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। জেলার ছয়টি  সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের অধিকাংশগুলোতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ প্রধান অতিথি থাকলেও তিনি থাকছেন না এ সম্মেলনে। তার স্থলে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের চিপ হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন থাকছেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।

সাত বছর আগে ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তৎকালীন সংসদ সদস্যের বিরোধিতার মধ্যেও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান সমর্থিত বাবুল আখতারকে সভাপতি ও তারিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে এ উপজেলা কমিটি অনুমোদন হয়। তবে এবারে পেক্ষাপট ভিন্ন। দলের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া উপদলীয় কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। জেলা নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন সম্মেলন মঞ্চে কমিটি ঘোষনা না দেওয়ায় কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জের সমর্থকরা একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক কয়েক ঘন্টা অবরোধ করে রাখেন। শিমুলিয়া ইউনিয়ন সম্মেলনের মঞ্চে হাতা-হাতি, মামলা পাল্টা মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকে দল থেকে বাদ দেওয়ায় সম্মেলন বর্জন করে এই অংশটি। তখন অবশ্য জেলা নেতাদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা অভিযোগ তুলেছিল সংসদ সদস্য অংশের নেতারা।

প্রায় দুই যুগের অধিক সময় ধরে এই উপজেলা আওয়ামী লীগের একক নেতৃত্ব কায়েম করে দলকে মজবুত অবস্থানে নিয়ে যান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান। নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া এই নেতা। তার পক্ষ থেকে তিনটি কমিটি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম। আবার দলের মধ্যে তার স্বেচ্ছাচারীতার অবসান ঘটনাতে মরিয়া বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতারসহ দলের বড় একটি অংশ।

কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ সমর্থিত এ অংশটির পক্ষ থেকে একটি কমিটি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান যুবলীগের আহবায়ক আল মাছুম মোর্শেদ শান্ত।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সমর্থিত অংশ থেকে সভাপতি পদে আরিফুল আলম তসর, ওয়াহিদুল ইসলাম ও সালাউদ্দিন মাহামুদ বাটু রয়েছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম একক প্রার্থী থাকছেন।

সংসদ সদস্য সমর্থিত অংশ থেকে সভাপতি পদে একক প্রার্থী বর্তমান সভাপতি বাবুল আখতার ও সাধারন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আল মাছুম মোর্শেদ শান্ত।

দলের মধ্যে উপদলীয় কোন্দলকে মশারির মধ্যে আর এক মশারী টাঙানোর মত মন্তব্য করেন রাজনৈতিব বিশ্লেষকরা। তারাও বলছেন আওয়ামী লীগ বড় রাজনৈতিক দল। নেতাদের মতের পার্থক্য হতে পারে। তবে দলীয় নেতাদের সহনশীল হতে হবে। সাধারন কর্মীদের একটি অংশের দাবি বর্তমান কমিটি বহাল রাখার পক্ষে। তবে দলকে গতিশীল করতে স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতির অংশের বিবাদ মিটাতে হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র তারিকুল ইসলামের সাথে কথা বলা হয়। তিনি জানান, সম্মেলনের প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়েছে। সম্মেলনে তাকে সাধারণ সম্পাদক রেখে একাধিক কমিটি জমার ব্যাপারে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে কমিটি জমাপড়া বিষয় না। তবে সম্মেলনস্থল থেকে তার ছবি সম্বলিত কিছু ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা হয়েছে। সহনশীলতার দেখাতে গিয়ে তিনি এ ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি বলে জানান।

সভাপতি বাবুল আখতার জানান, স্থানীয় নেতৃত্বে প্রতিযোগীতায় আমদের মধ্যে পক্ষ বিপক্ষ থাকতে পারে। তবে আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। সম্মেলন স্থল থেকে তার ফেস্টুন ছেড়ার ব্যাপারে তৃতীয় পক্ষের কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছেন। এ ঘটনায় তিনিও কারো কাছে অভিযোগ করেনি।

 

আরো খবর...