খোকসায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজে হরিলুট

পাঁচ হাজার টাকার মেশিনে ৩০ হাজার টাকার ভাউচার

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৫ হাজার টাকার ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয় করে বিল ভাউচার করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকার। এছাড়া বরাদ্দের টাকা থেকে নিয়ম বহিভূর্তভাবে ৫ শতাংশ আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজের হেফাজতে রেখেছেন। এসব অনিয়মের সাথে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব ও পিইডিপি ৪ এর অধিনে স্কুলের রুটিন মেরামত, প্রাক প্রাথমিক শ্রেণির জন্য শিক্ষা উপকরণ ক্রয়, বিদ্যালয় সজ্জিতকরণ ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দ থেকে ২০ শতাংশ টাকা হাতিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও শিক্ষক সমিতির নেতারা। এসব অনিয়মে বাধা দেন উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি প্রধান শিক্ষকদের সাথে বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শতভাগ কাজ নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের অভিযোগ, নিয়ম বহিভুর্তভাবে সংস্কার ও স্লিপের টাকা থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন লাগাতে নির্দেশ দেন। শিক্ষক সমিতির মনোনীত লোকের মাধ্যমে তড়িঘরি করে বিদ্যালয়গুলোতে ৫ হাজার টাকা দামের নিন্মমানের (ভারতীয়) ডিজিটাল হাজিরা মেশিন লাগিয়ে দেন। এর জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকার ভাউটার স্বাক্ষর করিয়ে  নেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পাতিলডাঙ্গী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লোকেরা পৃথক দুটি হাজিরা মেশিন লাগিয়ে দিয়ে শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা আদায় করে নিয়েছে। বরাদ্দের টাকা থেকে আয়কর কাটার নির্দেশনা না থাকলেও নিয়ম বহিভূতভাবে প্রতিটি বিল থেকে ৫শতাংশ হারে আয়কর কেটে নিজের হাতে রাখেন এই শিক্ষা অফিসার। শিক্ষকরা বলছেন, অনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কাজ শেষ করার কয়েক মাস পর তিন কিস্তিতে তাদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে ভ্যাট বাবদ ৭ শতাংশ টাকা কেটে রাখা হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, নিয়ম অনুয়ায়ী ভ্যাটের ৭ শতাংশ টাকা বিল উত্তোলনের সময় শিক্ষকদের মাধ্যমে সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষা অফিসার মির্জা গোলাম মহম্মদ বেগ ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে আইকর ও ভ্যাটের প্রায় ১২ লাখ টাকা নিজের হাতে রেখেছেন। বিদ্যালয়ের রুটিন মেরামতসহ অন্যান্য কাজের জন্য বরাদ্দ দেড় কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের অনিয়মের ঘটনাটি সরেজমিন খোজ নিতে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সাথে কথা বলা হয়। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বরাদ্দের টাকা তছরূপের বর্ননা দেন প্রকল্পের সাথে জড়িত শিক্ষকরা। তারা বলছেন শিক্ষকদের হাত পা বাধা। প্রাক প্রাথমিকের শিশুদের শিক্ষা উপকরণ, ডিজিটাল হাজিরা, ভুলে ভরা মুক্তিযোদ্ধা কর্ণারের ব্যানার থেকে শুরু করে অধিকাংশ কেনাকাটা করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সমিতির নেতা সভাপতি ও মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ। তারা আরো জানান, শিক্ষকরা শুধু বিদ্যালয়ের কিছু কাজ করেছেন। অনেক শিক্ষক বেতনের টাকা দিয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করেছেন বলেও দাবি করেন।  শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ বলেন, এসব অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। যারা অবৈধ সুবিধা নিতে পারেননি তারা এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এখানকার শিক্ষা কর্মকর্তা অত্যন্ত ভাল মানুষ। তার দিয়ে কোন অনিয়ম করানো সম্ভব না। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মির্জা গোলাম মহঃ বেগ জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে স্লিপ কমিটির। ওই কমিটির সভাপতি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। আমি শুধু প্রকল্প দেখভাল করেছি। তবে যে সব অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে সেটা সঠিক নয়। প্রকল্পের বাড়তি টাকা আমরা ভাল কাজে ব্যায় করেছি। এখানে অনেক শিক্ষক বেতনের টাকা দিয়েও সহযোগীতা করছেন।

আরো খবর...