খালেদা জিয়ার জীবন রক্ষাই এখন মুখ্য – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কারাগারে থাকা তাদের অসুস্থ নেত্রী খালেদা জিয়ার ‘জীবন রক্ষা করাই’ এখন দলের কাছে ‘মুখ্য’। বুধবার ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুলের এই উত্তর আসে। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে, জনগণের কাছে এখন মুখ্য বিষয়টা হচ্ছে যে, ম্যাডামের জীবনকে রক্ষা করা। কারণ এরা খুব সুপরিকল্পিতভাবে ম্যাডামকে হত্যার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। “আমরা তাকে মুক্ত করতে চাই, তার জীবনকে বাঁচাতে চাই, তাকে সুস্থ করে জনগণের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। আমরা জনগণের কাছে যাচ্ছি, তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা দেশনেত্রীকে মুক্ত করার চেষ্টা করব- এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে এটাই আমাদের কাজ।” দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার হাসাপাতালে গিয়ে তাকে দেখে আসার পর তার বোন সেলিমা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে খালেদা জিয়াকে মুক্তি বা জামিন দেওয়া উচিত। “আমাদের আবেদন, তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। অন্তত উন্নত চিকিৎসাটুকু করতে পারি যেন- এটাই আমাদের একমাত্র আবেদন। খালেদা জিয়ার প্যারোলের জন্য তার পরিবার আবেদন করছে বলে যে গুঞ্জন রয়েছে- সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিএনপি মহাসচিব বুধবার বলেন, “এটা (প্যারোল) সম্পর্কে আমরা ঠিক বলতে পারব না। কারণ এটা আমরা করিনি। তার পরিবার থেকে প্যারোলের আবেদন করা হয়েছে কিনা সেটাও আমাদের জানা নেই।” খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের অংশ হিসেবে শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে মিছিল হবে বেলা ২টায়। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হবে মিছিলটি। ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা তার (খালেদা জিয়া) মুক্তির জন্য আইনের সবগুলো বিষয় চেষ্টা করেছি, এখনো করে যাচ্ছি আইনগতভাবে। আমরা তো সব সময় দাবি জানাচ্ছি, আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমেও জানাচ্ছি, আমরা হোম মিনিস্টারের সঙ্গে কথা বলেছি, পার্লামেন্টেও জানানো হয়েছে। এখন পুরো বিষয়টাই সরকারের হাতে। দ্য বল ইজ ইন দেয়ার কোর্ট।” খালেদা জিয়াকে ‘শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে জামিন না দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে’ বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা একটা জিনিস খুব স্পষ্ট করে বলেছি যে, এটা আইনের বিষয় নয়। তাকে বেআইনিভাবে আটক করে রাখা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। সুতরাং সিদ্ধান্তটা রাজনৈতিক হতে হবে, অর্থাৎ দখলদার সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে- দেশনেত্রীকে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটক করে রাখবেন, না সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য, পরিবেশ তৈরি করার জন্য তাকে আপনারা মুক্তি দেবেন।” সবাইকে ১৫ ফেব্র“য়ারির বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জনগণের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে, এই ধরনের অন্যায়, এই ধরনের বেআইনি কাজ, এই ধরনের রাজনীতিকে ধবংস করে দেওয়ার যে কৌশল- সেগুলোকে নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য সামনে এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের সম্মিলিত ঐক্যের মধ্য দিয়ে, তাদের সোচ্চার হওয়ার মধ্য দিয়েই এ ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন-অন্যায়কে আমরা পরাজিত করতে সক্ষম হব বলে আমি বিশ্বাস করি।” মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে যৌথ সভায় বিএনপির শামসুজ্জামান দুদু, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ঢাকা জেলার দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, খন্দকার আবু আশফাক, নারায়ণগঞ্জ এটিএম কামাল, মামুন মাহমুদ, খন্দকার আবু জাফর, গাজীপুরের ছাইয়েদুল আলম বাবুল, শওকত হোসেন সরকার, সোহরাবউদ্দিন, মজিবুর রহমান, মানিকগঞ্জের জামিলুর রশীদ খান, এসএ জিন্নাহ কবির, টাঙ্গাইলের সাইদুল হক ছাদু, ফরহাদ রেজা, হান্নান মিয়া হান্নু, মুন্সিগঞ্জের কামরুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন। অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে মহানগরের আহসানউল্লাহ হাসান, এবিএম আবদুর রাজ্জাক মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, উলামা দলের শাহ নেছারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, আবদুর রহিম, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, ছাত্রদলের আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...