খালেদার সঙ্গে স্বজনদের দেখা  করতে দেয়া হচ্ছে না – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ ‘দলের চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভী বলেন, ‘প্রায় ৩১ দিন পর গত ১৬ ডিসেম্বর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে ১৯ দিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরও দেশনেত্রীর স্বজনদের সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অনুরোধ করার পরও এখন পর্যন্ত অনুমতি দেয়া হয়নি। সরকারের নেক নজরে থাকার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ দেশনেত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের দেখা করতে দিচ্ছেন না।’ তিনি বলেন, এটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের চরম বহিঃপ্রকাশ। এ সরকার আইন, আদালত ও বিচারাঙ্গন নিজেদের কব্জায় নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ন্যায় বিচার পাবার অধিকার হরণ করে নানা কায়দায় নির্যাতনের বিভীষিকা অব্যাহত রেখেছে। কারাবন্দি বেগম জিয়ার সঙ্গে তার পরিবার-পরিজনদের দেখা করতে না দেয়া কারাবিধির শুধু চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবিশ্বাস্য উত্থানের চরম নজির। গত ২৭ ডিসেম্বর দেশনেত্রীর আপন বোন বেগম সেলিমা ইসলাম, পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান, নাতনি জাহিয়া রহমান, নাতি শামীন ইসলাম, রাখীন ইসলাম ও নাতনি আরিবা ইসলামকে দেশনেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেনি। রিজভী বলেন, দেশনেত্রীর প্রতি সরকারের এ আচরণ শুধু দেশীয় নয় আন্তর্জাতিক আইনেরও লঙ্ঘন। এমনিতেই তিনি গুরুতর অসুস্থ, এ মূহুর্তে নিকটজনরা বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করলে তিনি মানসিক শান্তি পাবেন। অথচ অগণতান্ত্রিক সরকার মানসিক শান্তির সেই সুযোগটুকুও বেগম জিয়াকে দিতে চায় না। বেগম খালেদা জিয়ার মানবাধিকার কেড়ে নিয়েছে সরকার। আমরা বারবার বলেছি, দেশনেত্রীর নামে মামলা ও সাজা দেয়া সম্পূর্ণরূপে প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। সাজা দেয়ার জন্য দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দেয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে, নির্জন ও অস্বাস্থ্যকর কীট-পতঙ্গ ভরা কারাকক্ষে থাকতে বাধ্য করে তার পছন্দ মতো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে একদলীয় দুঃশাসনকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করা। রিজভী আরও বলেন, ‘মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও ‘৭১ এর রণাঙ্গনের সেক্টর কমান্ডার সাবেক রাষ্ট্রাপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী চারবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার সেই অধিকারটুকু নেই যে অধিকারটুকু একজন সাধারণ বন্দির রয়েছে। সাধারণ বন্দিদের সাতদিন পরপর সাক্ষাতের সুযোগ রয়েছে, কিন্তু দেশনেত্রীর সেই সুযোগ নেই। অসুস্থ দাদীকে দেখার জন্য সদ্য বিদেশ থেকে ছুটে এসে দেখা না পাওয়ায় শিশু-কিশোর নাতি-নাতনিদের বুকফাটা কান্নার আহাজারি আকাশে-বাতাসে ধ্বণিত হলেও সরকারের পাষাণ হৃদয়ে তা বিন্দুমাত্রা আঁচড় কাটেনি।’ ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন কারাগারে বন্দি ছিলেন তখন কারা কর্তৃপক্ষ তার কত আবদারই পূরণ করেছে, তা জাতি জানে। অথচ কারাবিধি অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বেগম জিয়া। আমি এ মূহুর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের সাক্ষাতের সুযোগ দিতে জোর আহ্বান জানাচ্ছি।’ ‘৯০ ভাগ জনগণ বিএনপিকে সমর্থন করে না’- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে দেশের জনগণ সমর্থন করে না। গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেখা গেছে, কুকুর দাঁড়িয়ে আছে। এ থেকে প্রমাণ হয় আওয়ামী লীগকে চতুষ্পদ প্রাণী এবং ভারতের নীতিনির্ধারকরা সমর্থন করে। এর বাইরে দেশের সাধারণ জনগণ তাদের সমর্থন করে না।’ সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শাহিদা রফিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সেলিমুজ্জামান সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...