খালেদার মুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘পরিবারের আবেদন’

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদার জিয়ার সাময়িক মুক্তি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এই আবেদন করা হয়- রোববার এমন গুঞ্জনের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেছেন, বিষয়টি তার জানা নেই। গতকাল রোববার গাজীপুর জেলার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন ফখরুল। খালেদার মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা আমি ঠিক বলতে পারব না। পরিবারের পক্ষ থেকে করা হলেও হতে পারে। আবেদনে কী আছে আমার জানা নেই।” সরকারের পক্ষ থেকে যদি সুস্পষ্টভাবে প্যারোলের আশ্বাস দেওয়া হলে আপনারা বিবেচনা করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা বহুবার বলেছি, এটা (প্যারোল) সম্পূর্ণভাবে তার (খালেদা জিয়া) ব্যক্তিগত ব্যাপার, ম্যাডামের ব্যক্তিগত ব্যাপার, তার পরিবারের ব্যাপার। সেই ক্ষেত্রে আমরা এখন কিছু বলছি না।” পরিবারের পক্ষ থেকে করা আবেদনটি বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবেন কিনা- এমন প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এটা তো তার পরিবার জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমরা সেই সিদ্ধান্ত নেইনি।” দুই মামলায় সাজা নিয়ে দুইবছর ধরে কারাবন্দী খালেদা জিয়া এক বছর ধরে আছেন হাসপাতালে। ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তার মুক্তি দাবি করে আসছে বিএনপি। শনিবার হাসপাতালে খালেদাকে দেখে এসে বোন সেলিনা ইসলামের শঙ্কা প্রকাশের পরদিনই জানা গেল তার মুক্তির আবেদনের বিষয়টি। খালেদা জিয়ার জামিন না হলেও দুই মামলায় আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের জামিন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা অনেকদিন থেকে বলে আসছি যে, এই রাষ্ট্র বর্তমানে অকার্য্কর রাষ্ট্র হয়ে গেছে, এটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। যার ফলে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানে এখন কোনো শৃঙ্খলা-জবাবদিহিতার জায়গায় নেই। “এই কারণে আজকে একজন কুখ্যাত আসামি, যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং যার কাছে কোটি কোটি টাকা পাওয়া গেছে। বেআইনিভাবে তাকে জামিন দেয়া হয়েছে অথচ রাষ্ট্র জানে না। এতে প্রমাণিত হয়েছে এই রাষ্ট্র একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণত হয়েছে এবং সরকার ব্যর্থ হয়েছে দেশে একটা প্রতিষ্ঠানিক শাসন প্রতিষ্ঠার করবার জন্য।” জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, হুমায়ুন কবির খান, ওমর ফারুক শাফিন, গাজীপুরের মজিবুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন সবুজ, সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, ভিপি ইব্রাহিম, শাহ রেজাউল হান্নান, রাশেদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...