খালেদার প্যারোলের জন্য ‘যুক্তিযুক্ত’ কারণ দেখাতে হবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি চাইলে তাকে যুক্তিযুক্ত কারণ দেখিয়ে সরকারকে সন্তুষ্ট করতে হবে। দুর্নীতির মামলায় দন্ড নিয়ে দুই বছর ধরে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন প্যারোলের আবেদন জানাতে পারেন বলে গুঞ্জনের মধ্যে তিনি একথা জানানোর পাশাপাশি বলেছেন, এখনও সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন পায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা প্যারোল নিয়ে কথা বলেন কাদের। তিনি বলেন, “তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার জন্য পরিবার থেকে বিভিন্নভাবে আবেদন  এসেছে। তারা টিভির পর্দায় আবেদন করেন। আমি আজ সকালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে খবর নিয়েছি, লিখিত কোনো আবেদন আসেনি। “লিখিত আবেদন আসলেও এ আবেদন কারণসহ যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও প্যারোল বিবেচনা করতে পারে না, সরকারও বিবেচনা করতে পারে না।” বিএনপি নেতারা দলীয় নেত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার মুক্তি দাবি করছেন। কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে খালেদার চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্ট নন তারা। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে দলের লোকেরা বলে এক কথা, চিকিৎসকরা বলেন আরেকটা। চিকিৎসকরা বলেন তার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে আছে। আর দলের লোকরা তাকে অসুস্থ থেকে অসুস্থ বানিয়ে নিয়েছে।” খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি ‘রাজনীতি’ করছে বলে অভিযোগ করেন কাদের। তিনি বলেন, “বেগম জিয়াকে জেলের মধ্যে মেরে ফেলবে, এ রাজনীতি বঙ্গবন্ধু করেন নাই। তার কন্যা শেখ হাসিনাও করেন না। তাকে কষ্ট দিয়ে মারার ইচ্ছা শেখ হাসিনার নেই। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। “খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছে আদালত। তার বিরুদ্ধে তত্ত্ববধায়ক সরকার দুর্নীতির মামলা দিয়েছে। আদালত এ মামলার বিচার করছে। তার দুর্নীতির মামলার মুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।” সম্মেলনে সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী কাদের বলেন, “শেখ হাসিনা সারাদেশে অভূতপূর্ব  উন্নয়ন করেছেন। এ উন্নয়নে সারা বিশ্বকে তিনি তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এখন এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে।” জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থানে আওয়ামী লীগের এই সম্মেলনে তিনি বলেন, “সততা ও মেধার প্রতীক হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর পরিবার। কীভাবে সৎ জীবন যাপন করতে হয়, তার উদাহরণ বঙ্গবন্ধুর পরিবার। এ পরিবারের সদস্যদের টাকা পয়সার প্রতি কোনো লোভ নেই।” টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা আজম ও এসএম কামাল হোসেন বক্তব্য রাখেন। টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাভাপতি ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনিসুর রহমান, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডি বাবুল রানা, গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ওসামা আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধূরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল বশার খায়ের, উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায় শেখ আহম্মেদ হোসেন মীর্জা, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশিদ প্রমুখ। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির ঘোষণা দেন ওবায়দুল কাদের। সভাপতি হিসেবে শেখ আবুল বশার খায়ের ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাবুল শেখের নাম ঘোষণা করেন তিনি। টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফোরকান বিশ্বাসের নামও ঘোষণা করা হয়। এরআগে গত ২০১৫ সালের নভেম্বরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আরো খবর...