খালেদার জামিন শুনানিতে বিরোধিতা না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান

ঢাকা অফিস ॥ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিরোধিতা না করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের নেতা জয়নুল আবেদীন। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান তিনি। দুই মামলায় দন্ড নিয়ে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি খালেদার সঙ্গে গত দুই দিনে বিএনপির সাত সংসদ সদস্য দেখা করে আসার পর তার ছাড়া পাওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। খালেদা প্যারোলে মুক্তি চান না জানিয়ে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে তার জামিনের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন দলটির সংসদ সদস্যরা। তার প্রতিক্রিয়ায় আগের মতোই তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা রাজবন্দি নন, ফলে তার জামিনের বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের বিষয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। “সরকার একদিকে বলছে, আদালত জামিন দিলে তাদের আপত্তি নাই। অথচ আমরা যখন আদালতে জামিন আবেদন শুনানি করি, তখন সরকার পক্ষ থেকে জোরালোভাবে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। যদিও এই ধরনের মামলায় আর কখনও সরকার পক্ষ থেকে এভাবে জোরালো আপত্তি করতে দেখি নাই।” দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ড নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা গত বছরের ফেব্র“য়ারি থেকে কারাবন্দি। গত ছয় মাস ধরে তিনি চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালত মিলে খালেদার বিরুদ্ধে এখন ১৭টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে দুটি মামলায় (জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) জামিন পেলেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন বলে তার আইনজীবীদের ভাষ্য।  দুর্নীতি দমন কমিশনের এ দুই মামলায় তার ১৭ বছরের কারাদন্ড হয়েছে। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার আবেদন আপিল বিভাগে এবং দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া ৭ বছরের সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল হাই কোর্টে বিচারাধীন। জয়নুল আবেদীন বলেন, “আমরা পুনরায় জামিনের জন্য আদালতে যাব। আমরা আশা করি, সরকার যে কথা বলছে (আদালত জামিন দিলে আপত্তি নাই) তা সরকারি আইন কর্মকর্তার মাধ্যমে আদালতে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। “প্রথমে হাই কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পরে আপিল বিভাগে আবেদন করব। সরকার হস্তক্ষেপ না করলে এই দুই মামলায় জামিন পেলে তার মুক্তিতে কোনো বাধা থাকবে না।” আইনি লড়াই চালিয়ে খালেদাকে মুক্ত করা যাবে না বলে বিএনপির অনেক নেতা মনে করলেও আদালত থেকেই খালেদার জামিনের আদেশ পাওয়ায় আশাবাদী দলটির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল। “খালেদা জিয়ার মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত। তিনি আইনগতভাবে জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন। যদি সরকার হস্তক্ষেপ না করে তিনি আদালত থেকে জামিন পাবেন।” বিএনপি চেয়ারপারসন সরকারের নির্বাহী আদেশে বা প্যারোলে মুক্তি নিচ্ছেন কি না-প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘যখনি জামিন আবেদন নিয়ে সোচ্চার হই, তখনই একটা খবর এসে যায়, খালেদা জিয়া প্যারোলে চলে যাচ্ছেন। এই যে প্যারোল-প্যারোল রাজনীতি, এতে খালেদা জিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। “সরকার বার বার বলে আমাদের কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। খালেদা জিয়া নির্দোষ, তিনি কেন দোষ স্বীকার করবেন? আমরা লক্ষ্য করছি ইতোমধ্যে খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্যারোল সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণমানুষের নেত্রী, আপসহীন নেত্রী।” জরুরি অবস্থার সময় বিএনপিকে ‘সংস্কারপন্থি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া জয়নুল বলেন, “ওয়ান-ইলেভেনের সরকারও খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার জন্য প্যারোলের নাম করে বিদেশ পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া দৃঢ়তার সাথে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।” সংবাদ সম্মেলনে জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে ছিলেন রফিকুল হক তালুকদার রাজা, গোলাম রহমান ভূইয়া, কামরুল ইসলাম সজল, এহসানুর রহমান, এ আর রায়হানসহ বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা।

 

আরো খবর...