খালেদাকে দেখে যান, জামিনের ব্যবস্থা করুন 

অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীকে

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির চারজন সংসদ সদস্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তার জামিনে মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করলেন। জামিনের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার হলেও তারা বলছেন, তাদের নেত্রী ‘রাজনৈতিক বন্দি’, ফলে তার মুক্তি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হবে বলে মনে করছেন তারা। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন তারা। গতকাল বুধবার বিকালে বিএসএমএমইউতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখতে যান দলটির চার এমপি জি এম সিরাজ, মোশাররফ হোসেন, জাহিদুর রহমান জাহিদ ও রুমিন ফারহানা। তারা ঘণ্টাখানেক ছিলেন দলীয় নেত্রীর কেবিনে। একাদশ সংসদে বিএনপির বাকি তিন সদস্য হারুনুর রশীদ, উকিল আব্দুস সাত্তার ও আমিনুল ইসলাম একদিন আগেই খালেদার সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, জামিন পেলেই চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবেন তাদের নেত্রী। দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ড নিয়ে গত বছরের ফেব্র“য়ারি থেকে কারাবন্দি ৭৫ বছর বয়সী খালেদা। চিকিৎসার জন্য গত এপ্রিল থেকে তিনি রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। সরকারের নির্বাহী আদেশে অর্থাৎ প্যারোলে মুক্তি নিয়ে খালেদা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন বলে কিছু দিন আগে সংবাদপত্রে খবর বের হলেও বিএনপি তা নাকচ করেছিল। আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, প্যারোলের আবেদন পেলে বিবেচনা করবেন তারা। তার মধ্যেই মঙ্গলবার খালেদাকে দেখে এসে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন বলেন, প্যারোল নয়, তারা জামিনে খালেদার মুক্তির আশা করছেন। তার একদিন পর দলীয় নেত্রীকে দেখে এসে বিএনপির বাকি সংসদ সদস্যরা জামিনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন। খালেদার বগুড়ার আসনের বর্তমান এমপি জি এম সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সাতজন সংসদ সদস্য সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলতে চাই, আপনি নিজে একবার আসুন, আপনি দেখে যান। “আমি নিশ্চিত, আমরা নিশ্চিত- আপনি যদি নিজে এসে দেখে যান আমাদের তিন-তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। আপনার মানবিকতাবোধ জাগ্রত হবে, আপনার মায়া হবে। “সংসদ নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার কাছে আমাদের সবিনয় অনুরোধ, আপনি আমাদের ম্যাডাম জিয়ার জামিনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আপনি আমলাতান্ত্রিক পরামর্শ না নিয়ে দয়া করে রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় আমাদের নেত্রীকে ছেড়ে দিন, জামিনের ব্যবস্থা করে দিন।” সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালত মিলে খালেদার বিরুদ্ধে এখন ১৭টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে দুটি মামলায় (জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) জামিন পেলেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন বলে তার আইনজীবীদের ভাষ্য।  খালেদা জিয়ার জামিন সরকার আটকে রেখেছে বলে বিএনপি অভিযোগ করে এলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন, জামিনের বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের এখতিয়ার, এক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদেরের এরকম বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জিএম সিরাজ বলেন, “রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কি ম্যাডামের মুক্তি হবে? আজকে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট, হাই কোর্ট বিব্রতবোধ করেন তার জামিনের বিষয়ে। “আমাদের নেত্রী রাজনৈতিক বন্দি। আমরা বিশ্বাস করি, এখানে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া ম্যাডামের মুক্তি হবে না।” খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চান না বলে জানান সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি সরাসরি প্যারোলের বিষয়ে ম্যাডামকে বলেছিলাম। ম্যাডাম আমাকে বলেছেন, ‘জামিন আমার হক, দেশের আইন অনুযায়ী আমি এখনই জামিন লাভের যোগ্য, কোনো রকমের কোনো অপরাধ আমি করিনি, সুতরাং এখানে প্যারোলের প্রশ্ন কেনো আসবে?’ “প্যারোলে কোনো প্রশ্নই আমাদের তরফ থেকে তোলা হয়নি। আমি ব্যারিস্টার রফিকুল হকের সাথে দীর্ঘকাল কাজ করেছি, আমার আইনের উপর যে অভিজ্ঞতা, এই ধরনের মামলায় এডমিশনে বেইল হয়ে যায়। সেখানে এরকম শারীরিক অবস্থায় ১৮ মাস ধরে উনি কারাগারে বন্দি আছেন।” খালেদা জিয়ার সঙ্গে যখন তার পরিবারের সদস্যরাই সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, তখন আপনাদের কি সরকারই পাঠাচ্ছে দেখা করতে- এক সাংবাদিকের এই প্রশ্নে রুমিন বলেন, “একদমই না।” সাক্ষাতের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে ধন্যবাদ জানিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, “উনি খুব সজ্জন ব্যক্তি। উনার কাছে সাক্ষাতের জন্য বলেছিলাম, উনি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। একসাথে চারজনের বেশি যাওয়ার বিধান নাই। সেজন্য দুই দফায় আমরা সাতজন নেত্রীর সাথে সাক্ষাত করেছি।” আপনারা কি সমঝোতার কোনো বার্তা নিয়ে গিয়েছিলেন- এই প্রশ্নে জিএম সিরাজ বলেন, “আমরা নেগোসিয়েশনের বার্তার কোনো কথা জানি না।” খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “চিকিৎসার ব্যাপারে ম্যাডামের বক্তব্য হল, তিনি তো বাংলাদেশেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসাই পাচ্ছেন না। বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে যাবেন। সেটা তো আমাদের সিদ্ধান্ত নয়। সেটা ম্যাডামের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার এবং তার পরিবারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার।” আগের দিন হারুন বলেছিলেন, জামিনে মুক্তি পাওয়ার  সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবেন তার নেত্রী। জি এম সিরাজ বলেন, “আগে তো মুক্তির দরকার, আগে মুক্তির প্রয়োজন। বিদেশ তো পরের কথা। লাগলে যাবেন বিদেশে।” আগের দিন দেখে এসে হারুন বলেছিলেন, তার নেত্রী ‘চরম অসুস্থ’। রুমিন বলেন, “উনাকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তার এই শারীরিক অবস্থার জন্য সরকার দায়ী। তার কোনো রকমের কোনো সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তার অবস্থার যে অবনতি হয়েছে, তার জন্য সম্পূর্ণরূপে সরকার দায়ী।”

আরো খবর...