কোনো চাপেই নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের পথ থেকে সরকার সরে আসবে না

সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ কোনো চাপেই নতুন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের পথ থেকে সরকার সরে আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে এই আইন প্রয়োগে যেন অযথা বাড়াবাড়ি না হয় সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। আগের চেয়ে কঠোর সাজা রেখে করা নতুন সড়ক পরিবহন আইনটি কাগজে-কলমে গত ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হলেও আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে দুই সপ্তাহ সময় নেওয়া হয়। রোববার সেই সময় শেষ হওয়ার পর ওবায়দুল কাদের আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা জানান। ওবায়দুল কাদেরের সংবাদ সম্মেলন চলার মধ্যেই অন্তত দশ জেলায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার খবর এসেছে। আরও অনেক জায়গায় পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ট্রাক চালকরা ধর্মঘটের ঘোষণা দেবে বলে শোনা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “যত চাপই থাকুক আইনটি বাস্তবায়ন করতেই হবে, এটি পার্লামেন্টের আইন, বাস্তবায়ন করতে হবে।” সড়কের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলার স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের আইন মেনে চলার জন্য অনুরোধ করে তিনি বলেন, “কোনো প্রকার ধর্মঘট-বন্ধ এসব থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আইন প্রয়োগের সময় অযথা যেন বাড়াবাড়ি না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” পরিবহন ধর্মঘটের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমি সেটা জানি, তাদের সাথে আমাদের সচিব আলোচনা করেছেন, আমিও কথা বলেছি, দেখেন না কি হয়। তাই বলে আইন প্রয়োগ না করে সরে যাব এটি কি আপনারা চান? আপনারাও আমাকে সহযোগিতা করুন, তারা তো চাপ দেবেই।” “গতকাল (রোববার) থেকে মাঠ পর্যায়ে (আইনটি) কার্যকর করা শুরু হয়েছে। সচেতনতার জন্য প্রথমে সাতদিন, পরে আরও সাতদিন সময় দিয়েছি। অনেকের আবেদন ছিল, অনুরোধ করেছেন আরও বাড়ানোর জন্য। কোনো অবস্থাতেই বাড়াতে রাজি হইনি। প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি, এতদিন আগে আইনটি হয়েছে, বাস্তবায়ন না হলে জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে।” প্রথম পর্যায়ে আইনটি সহনীয়ভাবে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে আইনটি সংযুক্ত করে যে বিষয়টি অসম্পূর্ণ ছিল গতকাল গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, আজ থেকে মোবাইল কোর্ট কার্যকর হচ্ছে।” “আইন প্রয়োগে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অযথা হয়রানি কিংবা বাড়াবাড়ি বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছি। সহনীয় মাত্রা মানে বাড়াবাড়ি যেন না করে এটাই বলছি।” পার্কিং সুবিধা নেই বা পথচারীদের হাঁটার জায়গা নেই, রিকশাচালকদের লাইসেন্স নেই- এসব ছাড়া আইনটি কিভাবে বাস্তবায়ন হবে জানতে চাইলে কাদের বলেন, “এ আইন শুধুমাত্র ঢাকার জন্য নয়। ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য তাদের অন্যদিকে মনোযোগ ছিল। তারা শিগগিরই মিটিং করবে, আমি নিজেই মিটিং ডেকেছি।” আইনটি বাস্তবায়নে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, “সড়ক পরিবহন আইনটি আগের তুলনায় কঠোর করা হয়েছে। আইনটি কঠোর করার উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়, সকলের কল্যাণে সড়ককে নিরাপদ করা দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনা। আইনটিতে একটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে তা হল চালকদের জন্য পয়েন্ট সিস্টেম, উন্নত বিশ্বের মত আইন অমান্য করলে চালকদের পয়েন্ট কর্তন করা হবে। “পরিবহন মালিকদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে, অভিযুক্ত যিনিই হোন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারকে আর্থিক সহয়তা দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।” আইনটি বাস্তবায়নে বিআরটিএ অতিরিক্ত সময় কাজ করছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “নতুন ডায়নামিক চেয়ারম্যান এসেছে, বিআরটিএতে ভিড় লেগেই আছে। বিআরটিএতে জনবলও বাড়ছে, এটি একটা চ্যালেঞ্জ। সকলে সহযোগিতা করলে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারব।”

আরো খবর...