কৃষক বাঁচাতে সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে

করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতিতে বেশি করে ঋণ প্রয়োজন ছিল কৃষকের। অথচ ব্যাংকগুলো তাদের চাহিদামতো ঋণ সহায়তা দেয়নি। বলার অপেক্ষা রাখে না- শুধু করোনার সংক্রমণই নয়, দীর্ঘস্থায়ী বন্যা কৃষি ও দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আয়হীন হয়ে পড়েছেন গ্রামের বিভিন্ন পেশার মানুষও। করোনকালীন এদের সহযোগিতা করতে ৫ হাজার কোটি ও ৩ হাজার কোটি টাকার দুটি প্রণোদনা প্যাকেজ গঠন করা হয়। কিন্তু দুটি প্যাকেজ থেকে ঋণ বিতরণের পরিমাণ অনেক কম। সরকারি জনতা ব্যাংকসহ ১৩টি ব্যাংক প্যাকেজ থেকে ঋণ বিতরণ শুরুই করেনি। ব্যাংকগুলোর অনাগ্রহ ও নানা জটিলতায় ঋণ বিতরণ বাড়ছে না। সম্প্রতি সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় বলা হয়েছে, এ বছর ২ আগস্ট পর্যন্ত ৩৩টি জেলার ১৬২টি উপজেলায় ৫০ লাখ ২৮ হাজার ৬৪৬ জন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। মারা গেছেন ৪৪ জন। বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। গবাদিপশুর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। এ ছাড়া ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৯ হেক্টর কৃষিজমি এবং ১৬ হাজার ৫৩৭ হেক্টর তৃণভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মনে রাখতে হবে- এটা স্বাভাবিক সময় নয়। দেশে করোনার মতো মহামারী চলছে। কৃষকের হাতে নগদ অর্থ নেই। সে সময়মতো ঋণ না পেলে উচ্চফলনশীল বীজ, সার, কীটনাশক কিনবেন কী দিয়ে? আর কোথা থেকেই দেবেন কৃষি শ্রমিকের মজুরি? তা ছাড়া জমি থেকে সবজি তোলা, পরিষ্কার করে বাজারে নিয়ে আসার খরচই জোগাবেন কোথা  থেকে? তাই কৃষি উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে, বাজার ব্যবস্থাপনা পুনরুদ্ধার ও গতিশীল করতে এবং ভেঙে পড়া  জোগান শৃঙ্খল পুনর্গঠন করতে কৃষিঋণের কোনো বিকল্প নেই। তাই ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার যে অনীহা তা দূর করতে সরকারের যা যা করণীয় তাই করবে এমনটাই প্রত্যাশা।

আরো খবর...