কৃষকরা একযোগে পাচ্ছেন কৃষি প্রযুক্তি জ্ঞান

তিন দিনব্যাপি মিরপুরে কৃষি মেলা

জাহিদ হাসান ॥ কৃষকদের সামনে একযোগে কৃষির সকল সেবা, প্রযুক্তি, আধুনিক জাত ও যন্ত্রপাতির নিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুরে চলছে তিন দিনের কৃষি মেলা। মেলার মাধ্যমে কৃষির আধুনিক যন্ত্রপাতি, সনাতন যন্ত্রপাতি, প্রায় ফসলে সনাতন, আধুনিক জাত, ফসল উৎপাদন কৌশল, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সম্পর্কে কৃষকরা একযোগে জ্ঞান লাভ করছে কৃষকরা। “বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প” এর আওতায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার থেকে উপজেলা কৃষি অফিস চত্ত্বরে শুরু হওয়া এ মেলায় ভীড় করছেন কৃষক/কৃষাণী, সাধারন ভোক্তা ও শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার  ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই এ মেলায় ভীড় করছেন অনেকেই।  মেলা ঘুরে দেখা যায় ২৫টি স্টল বসেছে। স্টলগুলো সাজানো বিভিন্ন বিষয়ের উপরে। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ সাধারন কৃষক ও দর্শনার্থীদের বিভিন্ন কৃষি পণ্য উৎপাদন, কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার, কৃষির বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত করছেন। দেখাচ্ছেন সনাতন ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের পার্থক্য, কৃষি যাত্রিকীকরণ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিভিন্ন কৌশল। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মেলায় স্টল ও পন্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে দর্শনার্থীদের কৃষির সাথে পরিচিত করছেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনকারী, রপ্তানিকারক, মডেল কৃষকরা। মেলায় ঘুরতে আসা কৃষক কামাল হোসেন জানান, “মেলায় এসে অনেক ভালো লাগছে। কৃষির প্রায় সবকিছুই এখানে দেখছি। আমি ধানের আধুনিক ও সনাতন জাত সম্পর্কে জানতে পেরেছি। বর্তমান সময়ে উচ্চ ফলনশীল জাত সম্পর্কে বিস্তারিত শুনেছি। কিভাবে উৎপাদন করতে হবে তা জানতে পেরেছি।” কৃষক মারুফ হোসেন জানান, “কৃষি মেলায় আমি  জৈব সার তৈরী করা শিখেছি। আমরা বাড়ীর আঙ্গিনায় এসব জৈব সার কিভাবে সহজেই উৎপাদন করতে পারবো তা জেনেছি। এছাড়া কিভাবে বিষমুক্ত উপায়ে চাষ করতে পারবো তা জানতে পেরেছি। আমি চিন্তা করেছি বাড়ীর আঙ্গিনায় এসব নিজে চেষ্টা করবো।” মনিরুল ইসলাম নামের এক দর্শনার্থী জানান, “আমি মাশরুম সম্পর্কে অনেক শুনেছি। তবে এখানে এসে তা দেখলাম। কিভাবে চাষ করা যায় সেটাও জানতে পেরেছি।” উপজেলার মডেল কৃষক আব্দুল মোমিন জানান, “আমরা কৃষক সংগঠন (সিআইজি) এর মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করি। কম খরচে খুব সহজেই আমরা বিভিন্ন চাষাবাদ করি। সেগুলো কিভাবে চাষাবাদ করি তা এ মেলায় প্রদর্শন করেছি। এছাড়া আধুনিক চাষ কিভাবে করলে লাভবান হওয়া যায় তা অনান্য কৃষকদের কাছে বলে তাদের উদ্বুদ্ধ করছি।” তিনি আরো বলেন, “আমরা যন্ত্রের সাহায্যে খুব কম সময়ে এবং কম খরচে কিভাবে বীজ-সার বপন, চারা রোপন, শস্য কর্তন, মড়াই ও ঝাঁড়াই করি। সেগুলো এ মেলাই তুলে ধরেছি।” মেলায় স্টল নিয়েছে মিরপুর উপজেলার সফল মৌ খামারী মধু মামুনও। মধু মামুন জানান, “আমি কিভাবে মধু উৎপাদন করি সেগুলো এ মেলায় প্রদর্শন করেছি। আশা করছি এগুলো অনান্যরা দেখে উপকৃত হবে।” দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার জানান, “পাঠ্য বই এ দেশি লাঙ্গল দেখেছি। বাস্তবে কখনো দেখিনি। এ মেলায় দেশি লাঙ্গল, জোয়াল দেখলাম। সেই সাথে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারলাম। এছাড়া নাম না জানা অনেক সবজি ও ফলের নাম জানতে পেরেছি।” মেলায় ঘুরতে আশা শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, “কিভাবে আমাদের এলাকায় তরমুজ উৎপাদন করা হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছি। ভালো লাগলো এসব কৃষি সম্পর্কে একযোগে দেখে।” উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক ও সাদ্দাম হোসেন জানান, “আমরা মেলায় বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে কৃষি সম্পর্কে অবগত করছি। সেই সাথে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করছি।” মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, “কৃষি মেলায় আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষক ও দর্শনার্থীদের পরামর্শ দিচ্ছি। সেই সাথে আমরা ফসলের সনাতন ও আধুনিক জাত চাষের মধ্যে পার্থক্য দেখাচ্ছি। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা তুলে ধরছি। এবং আধুনিক ও নিরাপদ ফসল উৎপাদনের কৌশল তুলে ধরছি।” বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা সেলিম হোসেন জানান, “কৃষি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রযুক্তি একযোগে কৃষকদের মাঝে তুলে ধরার জন্য আমরা ৩ দিনের এ মেলার আয়োজন করেছি। এতে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে বলে আশা করছি।” মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন জানান, “কৃষি মেলার মাধ্যমে কৃষকরা কৃষি সম্পর্কে জানতে পারছে। নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্য প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে। এবারে মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করার মতো।” কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) হাসিবুল ইসলাম জানান, “কৃষি মেলার মধ্যদিয়ে কৃষকরা নতুন প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবিত ফসলে জাত সম্পর্কে জানতে পারছে। নতুন কৃষি প্রযুক্তি কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এ মেলার মাধ্যমে। এতে কৃষকরা অধিক লাভবান হবে বলে আমরা মনে করি।”

আরো খবর...