কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিষ্ণুদিয়া বাগপাড়ায় গোরস্থান উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ

আব্দালপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আরব আলীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুদিয়া বাগপাড়া গোরস্থানসহ আরো কয়েকটি উন্নয়ন কাজের নামে আওয়ামী লীগ নেতা আরব আলীর বিরুদ্ধে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গোরস্থান, মসজিদ ও মন্দির কমিটির লোকজনকে না জানিয়ে অর্থ তুলে নেয়া হয়েছে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে। এদিকে মসজিদের অর্থ আত্মসাতের খবরে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসুল¬ী ও সাধারন মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে তারা দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে তিন প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য সদর উপজেলার বিষ্ণুদিয়া বাগপাড়া জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য সরকার থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বাগপাড়া মসজিদ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা, গোরস্থান সংস্কারে ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা ও মন্দির উন্নয়নে সমপরিমান টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

মসিজদ, মন্দির ও গোরস্থান কমিটি ও স্থাণীয় মুসুল¬ীদের না জানিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে ভুয়া কমিটি জমা দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরব আলী সব অর্থ তুলে নিয়েছেন। এ অর্থ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য ব্যয় না করে আত্মসাৎ করেছেন বলে কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। আরব আলী ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় কেউ ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।

মসজিদ কমিটির কয়েকজন নেতা  জানান, সরকারি অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, এবং তা উত্তোলনও করা হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। তবে সেই অর্থ মসজিদ কমিটি পাইনি। এ অর্থ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন নেতার কাছে রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না। কয়েকবার টাকা চাইলেও তিনি দেননি।

গোরস্থান ও মন্দির কমিটির নেতারা জানান, কাজের নামে আরব আলী সব অর্থ তুলে নিয়েছেন। টাকা চাইলে তালবাহানা করেন। তাই আমরা টাকা চাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এর আগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টাকা তিনি তুলে নেন।

স্থানীয়রা জানান, শুধু এই প্রতিষ্ঠানের অর্থ নয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরব আলী প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের কথা বলে এমপির কাছ থেকে অনুদান নিয়ে এসে আত্মসাৎ করেন। মসজিদ, মন্দির ও গোরস্থানের টাকাও তুলে তিনি নিজের কাছে রাখেন। স্থানীয় একটি মন্দিরের টাকাও তিনি মেরে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে কেউ অর্থ নয়ছয় করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভুয়া কমিটি দিয়ে যদি কেউ টাকা তুলে প্রয়োজনে তদন্ত করে দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি গুরুতর। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরব আলীর সাথে ফোনে কথা হলে বলেন,‘ কোন টাকা আত্মসাৎ করিনি। কাজ হয়েছে। এলাকার প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

আরো খবর...