কুষ্টিয়া শহরে চিকিৎসক দম্পত্তির বাসার গৃহপরিচারিকা কর্তৃক ১৪ মাসের শিশুকে নির্যাতন

বাবা-মার অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে চালাতো নির্যাতন

নিজ সংবাদ ॥  বাবা-মা দুজনেই চিকিৎসক। সকালে কর্মস্থলে বের হবার আগে ১৪ মাসের ছোট্ট শিশুটিকে রেখে যান বাসায় গৃহপরিচারিকা রেখা খাতুনের কাছে। সেই গৃহপরিচারিকা বাবা-মার অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন চালাতো। বাসায় ফিরে শিশুর শরীরে নির্যাতনের চিহৃ দেখে জানতে চাইলে গৃহপরিচারিকা বলতো পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে শিশু। তবে শেষ রক্ষা হয়নি ওই গৃহপরিচারিকার। গোপনে বাসার ভেতর লাগানো সিসি ক্যামেরা। একদিন নির্যাতনের দৃশ্য অফিসে বসে দেখেন কর্মজীবী মা। বাসায় ফিরে পুলিশ ডেকে ওই গৃহপরিচারিকাকে সোপর্দ করা হয়।

গত শনিবার শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকায় বহুতল ভবন মনামী ক্রিস্টাল প্যালেসে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির বাবা চিকিৎসক রকিউর রহমান গৃহপরিচারিকাকে আসামী করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্র জানায়, ক্রিষ্টাল প্যালেসের ৮ তলায় বি ফ্লাটে বাস করেন চিকিৎসক দম্পতি রকিউর রহমান ও শারমিন আক্তার। তাদের ১০ বছর ও ৭ বছর বয়সী দুই মেয়ে শিশু আছে। তারা স্কুলে পড়ে। এছাড়া ১৪ মাস বয়সী এক ছেলে শিশু আছে। প্রতিদিন সকালে চাকুরিজীবী দুজন চিকিৎসক কর্মস্থলে যান। ছোট দুই মেয়ে স্কুলে চলে যায়। এসময় একমাত্র ১৪ মাসের শিশু বাসায় গৃহপরিচারিকা রেখা খাতুনের কাছে থাকে। কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে প্রায়ই দেখতে পান শিশুর শরীরে জখমের চিহৃ। রেখাকে জিজ্ঞেস করলে জানায় ঘরের আসবাবপত্রের সাথে আঘাত লেগে এমন হয়। এতে ছেলের মানসিক অবস্থাও খারাপ হতে থাকে। বিষয়টি সন্দেহ হলে বাসার ভেতরে গোপনে সিসি ক্যামেরা লাগান। গত ১৪ মার্চ বাসা থেকে বের হলে স্ত্রী শারমিন আক্তার কর্মস্থল  থেকে সকাল সোয়া দশটার দিকে দেখতে পান রেখা খাতুন শিশু  ছেলে শাহাম রহমানের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়ে মারধর করছে। এঘটনা দেখার পর দ্রুত বাসায় ফিরে যান।  সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আরও খতিয়ে দেখে দেখতে পান সকাল পৌনে দশটায় রেখা খাতুন শিশুর গোপনাঙ্গসহ বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়ে মারধর করছে। মাথার চুল টেনে তুলে ফেলে। রেখাকে জিজ্ঞেস করলে সে সব স্বীকার করে। রেখাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

গত ১৬ মার্চ  রাত সোয়া ৯টার দিকে কুষ্টিয়া সদর থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০১৩ (সংশোধিত ২০১৮) এর ৭০ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন  রকিউর রহমান । এ ঘটনায় পরে অভিযুক্ত গৃহপরিচারিকাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিশু নির্যাতনের দৃশ্য ভাইরাল হয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, থানায় মামলা হবার পরপরই আসামীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে মারধরের চিত্র পাওয়া গেছে।

 

আরো খবর...