কুষ্টিয়া শহরতলীর রাহিনী এলাকায় ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরতলীর রাহিনী চারা বটতলা এলাকায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের পাশে ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও স্থাপনা নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিয়েছে, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ গায়ের জোরে স্থাপনা নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান ও অভিযুক্ত আলতাফুর রহমান (কুমারখালী উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার) ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাহিনী মৌজার আর, এস ২৭০ খতিয়ানের আর, এস ২৪৯ নং দাগের একই দলিলে ৩.৩০ শতাংশ এবং আলতাফুর রহমানের ৩.৩৬ শতাংশ জায়গা ৯৫১৭/২০১৩ নম্বর দলিলে গোলাম কুদ্দুস নামের এক ব্যাক্তির কাছ থেকে ক্রয় করেন। এই জমি বিক্রেতা আলফাতুরের আপন চাচা। আলতাফুর রহমান রাহিনী এলাকার মৃত বজলুর রহমানের ছেলে। এই জমি ক্রয়ের পর থেকে আলতাফুর রহমান বিভিন্ন সময় তালবাহানা শুরু করেন পুরো জমিটি দখলে নেওয়ার জন্য। জমিটি ক্রয় করার সময় জিয়াউর ও আলতাফুর এই জমির ওপর টিনসেটের স্থাপনাসহ ক্রয় করেন। কিন্তু জমি ক্রয়ের পর থেকে আলতাফুর বিভিন্ন সময় এই জমি একক ভাবে দখলের চেষ্টা করে আসছে। ভুক্তভোগী জিয়াউর প্রথম দিকে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে বুঝতে পারায় চতুর আলতাফুর জিয়াউরকে তার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি সামাজিকভাবে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় সমাধান করার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে আলতাফুর এই জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করেন। স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করলে জিয়াউর ২০১৯ সালের ১লা মার্চ পৌরসভার মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারন করেন। এর আগে ২০১৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউলের ছোট ভাই হাজী মফিদুল ইসলামসহ গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ ও পাশের জমির মালিকদের উপস্থিত মাপজোক সম্পন্ন করলে ৯ ফুট জায়গা বেধে গেলে ঐদিন আলতাফুর রহমান এক সপ্তাহের সময় নিয়ে একটা কাগজ তোলার কথা বলে এড়িয়ে যান । তারপর আবার টালবাহনা শুরু করেন।। এরপরেও স্থাপনার কাজ চলমান রাখলে জিয়াউর রহমান তার মালিকানা জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক বরাবর তিনি তার সম্পত্তি ফিরে পেতে একটি আবেদন করেন। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলে জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর পার্থ প্রতীম শীল কুষ্টিয়া সদর এসিল্যান্ডকে নির্দেশনা দিয়ে একটি চিঠি করেন। চিঠি পাওয়ার পর তৎকালীন কুষ্টিয়া সদর এসিল্যান্ড ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট ভুক্তভোগি জিয়াউর  ও অভিযুক্ত আলতাফুরকে ডেকে জায়গাটি পরিমাপের জন্য গেলে আলফাতুর ঐদিন অনুপস্থিত ছিলেন। তারপর ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া সদর এ্যাসিল্যান্ড অফিসে আসতে বললে সে ঐদিন আসে এবং নতুন অযুহাত তৈরী বলে এ বিষয়ে কোর্টে মামলা আছে। পরে কুষ্টিয়া সদর এ্যাসিল্যান্ড ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিরোধকৃত জায়গায় উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশ করলে ঐদিনও আলফাতুর অনুপস্থিত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর বিরোধপূর্ন জায়গায় কোর্টের মামলা উপেক্ষা করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়। পরে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর আলতাফুরের নিকটাত্বীয়  একরামুল হকসহ কয়েকজন মজমপুর ভূমি অফিসে বসে সমাধানের চেষ্টা করলে ঐদিনও আলফাতুর অনুপস্থিত থাকে। বিষয়টি সমাধানের শুধু তাই নয় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হলেও আলতাফুর সাড়া দেয়নি। পৌরসভার আমিন নিয়ে জায়গাটি মাপ-জোকের সময়েও আলতাফুর আসেননি। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে উল্টো ভুক্তভোগি জিয়াউরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। বর্তমানে ওই জায়গার মালিকানা বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া সত্বেও আলতাফুর ওই জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলতাফুরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগি জিয়াউর রহমান জানান, আমি ঢাকায় থাকার কারনে আলতাফুরকে সরল মনে বিশ^াস করে তার মাধ্যমে ওই জায়গা ক্রয় করেছিলাম। আমি বুঝতে পারিনি সে আমাকে এভাবে ঠকাবে। সে কোন আইন, শালিস, বিচার মানেনা। আমি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে বার বার বললেও সে কোন কর্ণপাত করছে না। শুধু তাই নয় আমাকে অহেতুক হয়রানী করার জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করেন এবং আদালত মামলা কোটে উঠার দিনই সকল কিছু বিবেচনা করে মামলাটি খারিজ করে দেন। শুধু তাই নয় ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল আমার জায়গা থেকে মাটি তুলে জায়গাটি গর্ত করে ফেলেন। আমি ঢাকায় থাকায় আমি সদর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করলে আমার ছোট ভাই থানায় মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। করোনা ভাইরাসের কারনে সবকিছু যখন বন্ধ তখন লোকচক্ষুর অন্তরালে আলফাতুর আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে নির্মান কাজ করছে, প্রতিবাদ করায় হুমকী ধামকী অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও চলতি বছরের ১ মার্চ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামের কাছে সকল কাগজপত্র জমা প্রদান সাপেক্ষে সমাধানের অনুরোধও জানিয়েছিলাম। আমি সঠিক বিচার চাই।

 

আরো খবর...