কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে দিনে দিনে বেড়েই চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। জেলার চৌড়হাস মোড় থেকে খোকসা উপজেলার শিয়ালডাঙ্গী পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলার ২৮ কিলোমিটার অংশের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই। এতে প্রাণহানিসহ পঙ্গুত্ববরণ করছেন অনেকেই। সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যস্ততম এই সড়কটির দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ দাবী করছেন স্থানীয়রা। গেল প্রায় এক বছর হতে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুষ্টিয়া ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কটির সম্প্রসারণসহ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছে। ইতিপুর্বে এই সড়কটির প্রসস্থ ছিল ১৮ ফিট, কিন্তু বর্তমানে সড়কটি ২৪ ফিট প্রসস্থ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে সড়কটির দৈন্যদশার কারণে। কিন্তু এখন সড়কের পরিস্থিতি ভালো হওয়া সত্ত্বেও দুর্ঘটনা ঘটছে যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও অবৈধ যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের কুমারখালী উপজেলার কালুমোড় নামক স্থানে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। গেল কয়েকদিনে এই স্থানে অবৈধ নছিমন পরিবহনের সাথে মাহিন্দ্র পরিবহনের সংঘর্ষে ১ জন নিহতসহ ১২ জন আহত হয়েছে। একই দিনে খোকসা উপজেলার অংশে অবৈধ নছিমন পরিবহনের সাথে সিএনজি পরিবহনের সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে। এমন দুর্ঘটনার খবর প্রায় প্রতিদিনই পাওয়া যাচ্ছে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে। এ জন্য স্থানীয় বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এই সড়কের উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর থেকে সব ধরণের যানবাহন চলাচল করছে অতিরিক্ত গতিতে। তাই বলা যেতে পারে বর্তমানে সড়কের গতি বেড়ে গেছে। সেই সাথে বেড়েছে অবৈধ পরিবহনের সংখ্যাও। আর তাই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনাও। সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে পরিবহন শ্রমিক-চালক-মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে জানাগেছে,  দীর্ঘদিন এই সড়কটির পরিস্থিতি ছিল খুবই খারাপ। যে কারণে ছোট-বড় সব ধরণের পরিবহনগুলোকে চলাচল করতে হতো ধীর গতিতে। আর তা সত্বেও সে সময়ে এই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তখন কুষ্টিয়ার চৌরহাস থেকে খোকসা উপজেলার শিলায়ালডাঙ্গী পর্যন্ত এই সড়কে হাজারো ছোট-বড় গর্ত ছিল। আর তাই চাকা গর্তে পড়ে কখনো কখনো যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়িগুলো উল্টে খাদে পড়ে যেতো। অথবা সড়কের খোয়া উঠে থাকায় বিশেষ প্রয়োজনে ব্রেক করলেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়তে হতো। সে সময়ে সড়কটির পরিস্থিতি খারাপ থাকায় বহু পরিবহন বিকল্প সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও এখন সড়কটির উন্নয়ন হওয়ায় আবারো যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে।

সবমিলিয়ে ব্যস্ততম এই সড়কে অবৈধ নছিমন-করিমন, আলমসাধু ও ভটভটি পরিবহনসহ সিএনজি, মাহিন্দ্র, অটোরিক্সা, ব্যাটারি চালিত পাখি ভ্যান-রিক্সা ও মোটর সাইকেল চলাচলের সংখ্যা আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আর তাই বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনাও। গেল কয়েক বছরে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কে বহু সাধারন পথচারী সহ যাত্রী, চালক ও তাদের সহকারীরা সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন এবং  প্রাণ হারাচ্ছেন। যানবাহনের চালকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, আসলে দুরপাল্লার যানবাহনগুলোর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য তাদেরকে একটু অতিরিক্ত গতিতেই চলতে হয়। আর এমতাবস্থায় যদি সড়কে ছোট ছোট যানবাহনের চাপ বেশি থাকে তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এ ছাড়াও সড়কের পাশে হাট-বাজার, সড়ক ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকান-পাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা থাকায় কিংবা পাশের সড়কগুলো থেকে অতর্কিত ব্যস্ততম এই সড়কে ঢুকে পাড়ার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের কুষ্টিয়া জেলার ২৮ কিলোমিটার অংশে বহু অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে সময় নির্ধারণ করে চিঠি দিয়েছিল কয়েকমাস আগে। কিন্তু আজও পর্যন্ত কেউই সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা ছেড়ে যায়নি। আর সড়ক ও জনপথ বিভাগও এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক অবৈধ স্থাপনা কুষ্টিয়া- রাজবাড়ী সড়কের দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ উল্লেখ করে জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালাতে  ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়কের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিতকরণ, দখলদারদের চিঠি দেওয়াসহ মাইকিং পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু  কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রার্দুভাবের কারণে সবকিছুই থমকে গেছে। তবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে প্রথমেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জরুরী ভিত্তিতে ব্যস্ততম এই আঞ্চলিক মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও অবৈধ পরিবহন সহ ছোট-ছোট পরিবহনগুলোর চলাচলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অনেকাংশে সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে বলে ধারণা, যানবাহনের চালক, মালিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্লেষকদের।

আরো খবর...