কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মসজিদের মলের জীবাণু যাচ্ছে হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে

নিয়ামুল হক ॥ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মসজিদের মলের জীবানু যাচ্ছে হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। দেখার কেউ নেই । হাসপাতাল ও মসজিদ কমিটির চোখে কালো চশমা। কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সীতে প্রবেশের যে রাস্তাটি ম্যাস্টস মোড় থেকে শুরু হয়ে দ্বিতীয় গেট দিয়ে হাসপাতালের ইমার্জেন্সীতে পৌঁছেছে সেই রাস্তার শুরুতেই রয়েছে হাসপাতাল জামে মসজিদ। কিন্তু ওই মসজিদের ওজুখানা টয়লেটের পানি নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। যার কারনে টয়লেটের মলসহ পানি রাস্তার উপর দিয়ে গড়ে যাচ্ছে। আর হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগামী যান বহনের চাকাই ও মানুষের চটির তলায় মেখে সারা হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্ষতিকারক জীবানু পৌঁছে যাচ্ছে। এতে করে রোগীরা আরও বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সুস্থ মানুষও রোগী দেখতে এসে হয়ে যাচ্ছে অসুস্থ। শুধু তাই নয় ঐ রাস্তা দিয়ে মলের দূর্গন্ধে সকলকে যেতে হয় নাকমুখ চেপে, না হলে দূর্গন্ধে বমি চলে আসে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ঐ রাস্তা দিয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্ট, ম্যাস্টস এর শিক্ষার্থী, হাসপাতালের রোগীর স্বজনসহ হাজারো মানুষ ঐ পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। কিন্তু যাতায়াতের সময় ঠিক ঐ মল জায়গাটায় এসে নাক মুখ চেপে হেঁটে যাচ্ছে। মসজিদের বাথরুমের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় আশেপাশের পরিবেশ দুর্গন্ধে ভারি হয়েছে উঠেছে। কিন্তু বিষয়টা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। না মসজিদ কমিটির না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের, কারও কোন দায়ভার নেই। আশেপাশের ফার্মেসী দোকানদাররা ও পথচারিরা বলছেন এ সমস্যা একদিনের নয় বহু বছর যাবৎ চলছে কিন্তু কেউ দেখে না। নিয়মানুযায়ী যে হাসপাতাল চত্বরটি বেশি পয়-পরিস্কার ও পরিবেশ বান্ধব থাকা দরকার সেখানেই হচ্ছে জীবানু চাষ। এ যেন বাতির নিচে অন্ধকার। স্থানীয়রা জানিয়েছেন এ পরিবেশে এসে সুস্থ মানষুও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্ষার সময় একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পানি জমে যায়। আর তখন এই মল-পানি হাসপাতালসহ সারা যায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এর দ্রুত সুরাহা দরকার। শুধু তাই নয় আবাসিক নার্সিং ভবনের সামনের রাস্তায় ভবনের জমে থাকা যত বর্জ্য ঐ রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। ফলে  বর্জ্য পচা দূর্গন্ধে ওই দিক দিয়ে যাওয়া যায় না। এমনকি ডায়াবেটিক হাসপাতালের রোগীরাও ওই রাস্তা দিয়ে যেতে বিব্রতবোধ করে। এমনিতেই সরু রাস্তা, আবার সরকারি-বেসরকারি শত এম্বুলেন্স ওই রাস্তায় রেখে রাস্তায় চলার অনুপোযোগী করে রাখে, এম্বুলেন্স মালিকরা, ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। এ যেনো পরিকল্পনাবিহীন রাজ্যে। কারোও কোন দায়িত্ব নেই, নেই কারো দায়। এ  যেনো রাজা ছাড়া রাজ্য। এ সব সমস্যা থেকে পরিত্রান চান ভুক্তভুগিরা।  জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তাপস কুমার সরকার জানান, ঐ রাস্তাটি কুষ্টিয়া পৌরসভার। ইতোমধ্যে বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পৌরসভা চলতি বছরের মধ্যেই নতুন করে রাস্তা নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন, রাস্তাটি হয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে বলে জানান তিনি।

আরো খবর...