কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার সরকারের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুফের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা

যন্ত্রপাতি কেনায় অনিয়ম

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ তাপস কুমার সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি ফান্ডের ১৪ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। বিভাগীয় তদন্ত কমিটি অর্থ তছরুপের বিষয়টি প্রমানও পেয়েছেন। এ বিষয়ে সরকারি চাকুরি বিধিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দেয়া হয়েছে। তবে কোন অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান ডাঃ তাপস কুমার সরকার।

জানাগেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে হাসপাতাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট (এইচএসএম) অপারেশন প্লানের আরপিও (জিওবি) খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অনুকুলে ১ম ও ২য় কিস্তিতে ছাড়কৃত ১৪ কোটি টাকার বেশি ছাড় করা হয়।

ছাড়কৃত ১৪ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা দিয়ে নিম্নমানের ও বেশি দামে যন্ত্রপাতি কেনা হয়।  এসব ভারী যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ডাঃ তাপস কুমার সরকার অনিয়ম করেন। যন্ত্রপাতি কেনার নামে ছাড়কৃত অর্থের বেশির ভাগ নয়ছয় হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত টিম গঠন করা হয়। একাধিক টিম কুষ্টিয়ায় এসে তদন্ত করে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে আরএমও’র অনিয়মের বিষয়টি প্রমান পান। তদন্ত টিম বিস্তারিত তুলে ধরে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

সর্বশেষ স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের সচিব আসাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পত্রে তাপস কুমার সরকারের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের বিষয়ে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে গত ৩০ অক্টোবর চিঠি দেন। সেই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে হাসপাতাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট (এইচএসএম) অপারেশন প্লানের আরপিও (জিওবি) খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অনুকুলে ১ম ও ২য় কিস্তিতে ছাড়কৃত ১৪ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা দ্বারা ক্রয়কৃত এমএসআর সামগ্রী ও ভারী যন্ত্রপাতিসমূহের অনিয়মের সাথে জড়িত ছিলেন ও তদন্তে প্রমানিত হয়েছে। এ ধরনের কাজকর্ম সরকারি কর্মচারি আচরন বিধিমালা অনুযায়ী ‘ অসদাচরণ ও দুর্নীতি’ হিসেবে গন্য হয়।

তাই ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারি (শৃংখলা ও আপিল)  বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচারন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হলো। একই সাথে কেন উক্ত বিধিমালার অধিনে তার বিরুদ্ধে দন্ড প্রদান করা হবে না তা নোটিশ প্রাপ্তির ১০দিনের মধ্যে জানাতে বলা হলো ও একই সাথে ব্যক্তি শুনানি চাইলেও বিষয়টি জানানোর নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়। এ চিঠি পেয়ে আরএমও ডাঃ তাপস কুমার সরকার জবাব দিয়েছেন। ডাঃ তাপস কুমার সরকার বলেন, চিঠি পাওয়ার পর আমি জবাব দিয়েছি। সেখানে আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি। বাকিটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখবেন আসলে দুর্নীতি হয়েছে কি-না।’ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোছাঃ নুরুন নাহার বেগম বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে শুধু আবাসিক মেডিকেল অফিসার নয়, ক্রয় কমিটির সাথে জড়িত ঠিকাদারসহ ৪ জনকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৫ সদস্যের টিম বিষয়টি তদন্ত করেছে। আশা করি এ বিষয়ে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বিস্তারিত বিষয় আমাদের তরফ থেকে তুলে ধরা হয়েছে।’  ডাঃ তাপস কুমার সরকার ৪ বছরের বেশি সময় ধরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চাকুরি করছেন। তিনি পরিশ্রমী চিকিৎসক বলে সবার মাঝে পরিচিত। আরএমও হলেও প্রতিদিন তিনি নিজেই শতাধিক রোগী দেখেন হাসপাতালের চেম্বারে। এর মাঝে তার প্রমোশন হলেও তিনি কর্মস্থল ছাড়েননি বলে জানা গেছে। একই সাথে তিনি জেলা কারাগারের দায়িত্বে আছেন।

 

আরো খবর...