কুষ্টিয়ায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের পর্যবেক্ষনে বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন সদর ইউএনও

ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি

নিজ সংবাদ ॥ প্রবাস থেকে এসে হোম কোয়ারেন্টাইনে অবস্থান করছেন কি-না তা পর্যবেক্ষনে এবার বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন  কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুবায়ের হোসেন চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর তিনি ইতালি ও সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরা  দু’জনের বাড়িতে যান। এদের একজনের বাসা শহরের উপজেলা রোডে, আরেক জনের সদর উপজেলার জিয়ারখীতে। একজন দুই দিন আগে অন্যজন ৮দিন আগে দেশে ফেরেন।

উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে যারা প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা সঠিকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন কি-না তা যাচাই করতে এখন থেকে বাড়ি বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। এছাড়া এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বর ও চৌকিদারদের নিয়োগ করা হয়েছে সার্বক্ষনিক তাদের বাড়ির ওপর নজর রাখার জন্য। যদি কেউ আদেশ অমান্য করে তাদের ওপর আইন প্রয়োগ করা হবে। কোন ভাবেই বিষয়টি আর হালকাভাবে নেয়া হচ্ছে না। কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে।

সরেজমিন ইউএনও’র সাথে গিয়ে দেখা যায় উপজেলা রোডে অবস্থিত ইতালি প্রবাসী তার ঘরের একটি কক্ষে অবস্থান করছে। তবে ঘরটির দরজা খোলা।

তিনি দাবি করেন, বাইরে থেকে আসার সময় তার স্বাস্থ্য কয়েক দফা পরীক্ষা করা হয়েছে। বাড়িতে আসার পরও কোন সমস্যা নেয়। ঠান্ডা, কাশি, বা হাঁচি নেই। তারপরও তিনি নিয়ম মেনে চলছেন। একা থাকছেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী এ সময় ওই ব্যক্তিকে গাইড লাইন দেন।

পরে জিয়ারখী ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে যান সিঙ্গাপুর থেকে দুই দিন আগে দেশে ফেরা এক ব্যক্তির বাড়ি। তিনি সেখানে শ্র্রমিকের কাজ করতেন। গিয়ে দেখা যায় তিনি পুরোপুরিভাবে নিয়ম মেনে একটি আলাদা কক্ষে অবস্থান করছেন। তার বাড়ির লোকজনও বিষয়টি জানার পর তারাও নিয়ম মেনে চলছেন। এরপরও তাদের সার্বিক বিষয়ে অবহিত করেন ইউএনও। ১৪দিনের আগে বাইরে বের হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান। প্রতিবেশিদেরও তিনি করোনা বিষয়ে অবহিত করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন,‘ এই মুহুর্তে সদর উপজেলায় ২১জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ইতালি প্রবাসী দুইজন রয়েছে। এদের বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং চালানো হচ্ছে। বাইরে বের হলে বা কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ২১ সদস্য ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এরা করোনা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করবে। আজকের মধ্যেই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সকল চেয়ারম্যানদের।

আরো খবর...