কুষ্টিয়ায় হাটে পেঁয়াজের প্রচুর আমদানি, দামও বেশি

কৃষকেরা খুশি মনে বাড়ি ফিরছে

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা কুষ্টিয়া। এখানকার হাট-বাজারে পেঁয়াজ আমদানী প্রচুর হলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। তবে চড়া মুল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পেরে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা খুশি মনে বাড়ি ফিরছেন। এদিকে প্রশাসনের কড়া নজরদারীর কারনে শহরের পাইকারী ও খুচরা বাজারে মুল্য এখন স্থিতিশীল রয়েছে। সারাদেশের মত কুষ্টিয়ার সর্বত্র গত এক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজ পাইকারী ও খুচরা মুল্যে কয়েক গুন বেড়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষেরা দিশেহারা। পিয়াজের মুল্য বৃদ্ধিতে স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে আর তখন থেকেই বাজারে প্রশাসনের কড়া নজরদারীর কারনে পিয়াজের উচ্চ মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে।

শুক্রবার জেলার কুমারখালী উপজেলার পান্টি পিয়াজের হাট ছিল। আশে পাশের কয়েকটি জেলার মধ্যে পান্টি স্কুল মাঠের এই হাটটিতে বছরের সব সময় প্রচুর পিয়াজের আমদানী হয়। প্রতি শুক্রবার ফজরের নামাজের পর থেকেই এই হাটে পিয়াজ বেচা কেনা শুরু হয়। বেলা ১০টার মধ্যে বেচাকেনা শেষ হয়। পান্টি পিয়াজের হাটে গতকালও প্রচুর পিয়াজের আমদানী ছিল। স্কুলের পুরো মাঠটি জুড়ে পিয়াজ কেনা বিক্রি চলছিল। এই হাটে সবচেয়ে ভাল পিয়াজের পাইকারী দাম ছিল ৩১০০/-, ৩২০০/-টাকা মন। এখানে প্রকার ভেদে পিয়াজের মন প্রতি দাম ২৬০০/- থেকে ৩২০০টাকা। এই হাটে গুটি পিয়াজ (বীজ) এর মন ৩০০০/- টাকা ছিল। শৈলকুপার ইসমাইল ব্যাপারী স্কুলের সাইকেল ষ্ট্যান্ডে পিয়াজ কিনে গুদামজাত করছেন। তিনি জানালেন-পিয়াজ ভেদে ২৮০০/- থেকে ৩০০০/- টাকায় কয়েক হাজার মন পিয়াজ কিনেছি রংপুরে নেয়ার জন্য। কুমারখালী মোহন নগর গ্রামের কৃষক আখতারুজ্জামান বলেন, বাড়িতে রাখা পিয়াজ বিক্রি করতে আসছি। ২৯০০/- টাকা মনে ১০মন পিয়াজ বিক্রি করে অনেক লাভবান হয়েছি। তিনি জানান-ভারতীয় পিয়াজ না আসলে দেশের কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা পিয়াজ বিক্রি করে আরো লাভবান হবেন। তিনি আরো জানান-এলাকার বাড়িতে বাড়িতে প্রচুর পিয়াজের মজুদ রয়েছে। বেশি দাম পাওয়ার আশায় কৃষকেরা ঘরে পিয়াজ রেখে আস্তে আস্তে বিক্রি করছে। খেজুরবাড়িয়া গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক তোয়াজুদ্দিন কয়েক বস্তা গুটি পিয়াজ ( বীজ) নিয়ে হাটে এসেছে ৩০০০/- টাকা মন বিক্রি করতে পেরে দারুন খুশি। পান্টি হাটে মৌসুমী মজুদদারদের বেশি মুল্যে পিয়াজ কিনতে দেখা গেছে। আবার অনেকে খাওয়ার জন্য বেশি করে পিয়াজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর পিয়াজের হাটে শুক্রবার প্রচুর পিয়াজের আমদানী ছিল। এই হাটে গুটি পিয়াজের (বীজ) আমদানী বেশি। এহাটে গুটি পিয়াজ সর্বোচ্চ ৬০০০/- টাকা থেকে ৩২০০/- টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ী বজলু জানান- হাটে প্রচুর পিয়াজের আমদানী। কৃষকেরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে পিয়াজ হাটে আনছে। তাছাড়া এখানে ব্যবসায়ীদের প্রচুর পিয়াজ মজুদ আছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান-এই হাটে গুটি পিয়াজের আমদানী প্রচুর। চাষীরা গুটি পিয়াজ বিক্রি করে বেশি লাভবান হচ্ছে। সামনের দিন গুলোতে পিয়াজের দাম আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা করছে। এই কারনে অনেকে পিয়াজ বিক্রি না করে শেষ পর্যন্ত দেখার অপেক্ষায় আছে। এদিকে কুষ্টিয়া শহরের পৌরবাজারের পিয়াজের আড়তে শুক্রবার ৭০-৭৫ টাকা পর্যন্ত পাইকারী এবং খুচরা ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তবে শহরতলী এবং গ্রামে পিয়াজের প্রতি কেজি  খূজরা মুল্য ৯০-১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শ্যামল কুমার বিশ্বাস জানান, দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা কুষ্টিয়া। এখানে চাহিদার থেকে দ্বিগুনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলের পেঁয়াজের মান ভাল হওয়ায় অতিরিক্ত পেঁয়াজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যায়। বর্তমানে কুষ্টিয়ার কৃষকের ঘরে প্রচুর পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। এখানে পেঁয়াজের কোন সংকট নেই। এখান থেকে প্রতিদিন টন টন পেঁয়াজ বাইরের জেলায় যাচ্ছে।

আরো খবর...