কুষ্টিয়ায় স্মরণকালের বর্ণাঢ্য র‌্যালী জেলা প্রশাসনের

মুজিব বর্ষের ক্ষণগননা

নিজ সংবাদ ॥ মুজিব বর্ষের ক্ষণগননা উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। গতকাল দুপুর আড়াইটায় কালেক্টরেট চত্বর থেকে এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করে জেলা প্রশাসন। র‌্যালীটি শহর প্রদিক্ষণ করে ফের কালেক্টটরেট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।  র‌্যালীতে জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, পৌর মেয়র আনোয়ার আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারন সম্পাদক আজগর আলী, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কাজি মনজুর কাদির, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম টুকু, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।

দুপুরের আগেই কালেক্টটরেট চত্বর লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। র‌্যালীতে অংশ নেয়ার জন্য দুর-দুরান্ত থেকে আসেন নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। এছাড়া র‌্যালীতে সারা জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠাপনা শিক্ষার্থীরা, সরকারি, আধা সরকারি ও সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও সামাজিক সংগঠনের কর্মিরা অংশ নেন।

র‌্যালী শেষে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন, সদ্য স্বাধীন বাঙালী জাতি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে একটি স্বাধীন দেশ পেলেও স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে বাঙালির বিজয় ছিল অসম্পূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের মধ্য দিয়ে সেই বিজয় পূর্ণতা পেয়েছে। তাই আজকের এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। বাঙালী জাতি স্বদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মাটিতে নেমেই মাটি ছুঁয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা শিশুর মতো আবেগে আকুল হয়েছিলেন। আনন্দ-বেদনার অশ্র“ধারা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। তাঁর দুচোখ বেয়ে নেমেছিল অশ্র“ধার। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দশ্র“তে সিক্ত হয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বাংলার আকাশ-বাতাস।  গতকাল শুক্রবার বিকেলে কালেক্টরেট চত্বরে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য পাদদেশে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা উদ্বোধনী ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সদ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে বিশে^র দরবারে পরিচিতি গড়ে তুলতে, বাঙালি জাতিকে মাথা উচু করে বাঁচতে শেখাতে সেদিন দেশের দায়িত্ব নেন।  স্বপ্ন দেখেন এদেশকে সোনার বাংলা গড়ে তোলার এবং দেশের মানুষকে সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলার। আজকে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাঝে বেঁচে নেই, কিন্তু তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে। রয়ে গেছে তাঁর সোনার দেশের সোনার মানুষ। আজকের এই দিনে আমাদের স্বপথ হোক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার এ দিবসটি বাঙালি জাতির মাঝে অনেক বেশি দ্যুতিময় হয়ে ধরা দিচ্ছে। কারণ একাত্তরের অমোচনীয় ইতিহাস যার হাত ধরে সৃষ্টি, যার বদৌলতে এ জাতি পেয়েছে সবুজ জমিনে লাল সূর্যের একটি পতাকা, সেই মহান রাজনীতিক বঙ্গবন্ধুর আসন্ন জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনাও শুরু হচ্ছে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস অর্থাৎ আজ থেকেই। তিনি জেলার সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক, সূধীজন সহ নানা বয়সী মানুষ আজকের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষণগণনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি যেভাবে সফল ও সুন্দর করতে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেছেন তা যেন আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানে অব্যাহত থাকে। আপনাদের এই সহযোগীতা সত্যিই মনে রাখার মত। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। শুক্রবার দুপুর সোয়া দু’টায় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে নির্মিত বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিবসের মুল কর্মসূচী শুরু হয়। পরে কালেক্টরেট চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালেক্টরেট চত্বরে এসে আলোচনা সভায়  মিলিত হয়। স্বরণকালের সর্ববৃহৎ শহরের সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ্য বর্ণাঢ্য র‌্যালী সহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার অনুষ্ঠানে ঢল নেমেছিল বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের। শুক্রবার দুপুরের পর থেকেই কুষ্টিয়া শহরের সড়কগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে সরকারী বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  ছাত্র-শিক্ষক, সূধীজন সহ নানা বয়সী মানুষের। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ  থেকে শহরে বের করা হয় অসংখ্য মিছিলও। সেখান থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগান প্রকম্পিত করে তোলে চারপাশ। বিকেলে ঢাকার প্যারেড গ্রাউন্ডের সাথে একযোগে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মুহুর্মুহু করতালি আর শ্লোগানের মধ্য দিয়ে মার্কিন জেট বিমান থেকে প্রত্যাবর্তন করা জাতির জনকের আলোকবর্তিকাকে বরণ করা হয়। স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক মৃনাল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে স্মৃতিচারণমুলক বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার), জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আ.স.ম.আখতারুজ্জামান মাসুম (জিপি), বিশিষ্ট লেখক ও কলামিষ্ট শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু প্রমুখ। জন্মশতবার্ষিকী ও বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন দু’দিনব্যাপী এ কর্মসূচীর আয়োজন করেছে। হয়েছে সরকারী বেসরকারী দপ্তরে বর্ণিল আলোকসজ্জা, করা হয় বিভিন্ন আতোশবাজী। প্রজেক্টরের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত একটি ডিজিটাল কিয়স্কের উদ্বোধন করবেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা শিশু একাডেমি ও লালন একাডেমির শিল্পীরা। চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

এদিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও নানা কর্মসুচী পালন করা হয়। র‌্যালী অংশ নেন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা। এছাড়া রাতে বর্নিল আতশবাজির আয়োজন করেন পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত। পাশাপাশি ক্ষণগননার জন্য বিশাল ঘড়ি স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ লাইনে।

আরো খবর...