কুষ্টিয়ায় বাড়ছে ফসলের হেক্টরপ্রতি ফলন

কৃষি বিভাগের নানান প্রচেষ্টা আর কৃষকের পরিশ্রম

কাঞ্চন কুমার ॥ মাটির ধরণ ও পরিবেশ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাটিকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। স্বল্প বৃষ্টিপাত সম্পন্ন এলাকায় অবস্থিত কৃষি পরিবেশ অঞ্চল-১১। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কুষ্টিয়া এই অঞ্চলে অবস্থিত। গঙ্গাবাহিত পলি মাটি কারণে এই অঞ্চলের প্রধান ফসল ধান। কুষ্টিয়া অঞ্চলের মাটি উঁচু এবং মাঝারী উচুঁ জমিতে হালকা বুনটের বেলে দোআশ হতে দোআশ এবং নিচু ও মাঝারী নিচু জমিতে পলি দোআশ হতে এটেল দোআশ বুনট বিশিষ্ট। তাই ধান ভিত্তিক দুই ফসলী ও তিন ফসলী জমি এ এলাকার প্রধান শস্য বিন্যাস। ধান ছাড়াও এ জেলায় গম, ভুট্টা, সরিষা, তিল, চিনাবাদাম, ছোলা, মটর, খেসারী, মাসকলাই, মুগ, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, ধনিয়া, আলু, পটল, বেগুনসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি ছাড়াও আখ, পাট তামাক চাষ হয়ে থাকে। জেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় কুষ্টিয়ায় প্রায় সকল ধরনের কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে কুষ্টিয়ায় ধানের হেক্টরপ্রতি ফলন ছিলো ২ দশমিক ৫৭ মেট্রিকটন। যা ২০১৬-১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৩৮ মেট্রিকটন। যা শতকরা ৩১ দশমিক ৫০% বেশি। ২০১৮-১৯ সালে আবাদ হয়েছিলো ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৪শ ৩৫ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিলো ৫ লক্ষ ৮শ ৫৯ মেট্রিকটন।  ২০০৮-০৯ সালে গমের হেক্টরপ্রতি ফলন ছিলো ২ দশমিক ৩৮ মেট্রিকটন। যা ২০১৬-১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাড়ায় ৩ দশমিক ৬০ মেট্রিকটন। যা শতকরা ৫১% বেশি। ২০১৮-১৯ সালে আবাদ হয়েছিলো ৯ হাজার ২শ ৯৫ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিলো ৩৬ হাজার ২শ ৫০ মেট্রিকটন।  ২০০৮-০৯ সালে ভুট্টার হেক্টরপ্রতি ফলন ছিলো ৬ দশমিক ০৩ মেট্রিক টন। যা ২০১৬-১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাড়ায় ১০ দশমিক ৬০ মেট্রিকটন। যা শতকরা ৭৬% বেশি। ২০১৮-১৯ সালে আবাদ হয়েছিলো ৮ হাজার ৪শ ৭৫ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিলো ৯০ হাজার ৩শ ৭০ মেট্রিকটন।  ২০০৮-০৯ সালে সরিষার হেক্টরপ্রতি ফলন ছিলো ১ দশমিক ২৬ মেট্রিকটন। যা ২০১৬-১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৫০ মেট্রিকটন। যা শতকরা ১৯% বেশি। এছাড়া ৫৩৭ টি মৌ বাক্স সরিষা ক্ষেতে স্থাপনের মাধ্যমে ৬৫২০ মধু আহরণ করা হয়। ২০১৮-১৯ সালে আবাদ হয়েছিলো ৬ হাজার ৭শ ৫০ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিলো ৯ হাজার ৭শ ৮৮ মেট্রিকটন।  ২০০৮-০৯ সালে ডাল জাতীয় ফসলের গড় হেক্টরপ্রতি ফলন ছিলো ১ দশমিক ২৪ মেট্রিকটন। যা ২০১৬-১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাড়ায় ১ দশমিক ৫৭ মেট্রিকটন। যা শতকরা ২৭% বেশি। ২০১৮-১৯ সালে আবাদ হয়েছিলো ১৮ হাজার ৯৫ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিলো ২৬ হাজার ৬শ ৫১ মেট্রিকটন।  ২০০৮-০৯ সালে মসলা জাতীয় (মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, ধনিয়া) চাষ হয়েছিলো ৫ হাজার ৯শ ১৫ হেক্টর। হেক্টরপ্রতি ফলন ছিলো ৮ দশমিক ৬০ মেট্রিকটন। যা ২০১৬-১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে চাষ হয় ১১হাজার ২০ হেক্টর। ফলন ১২ দশমিক ৩৯ মেট্রিকটন। ২০১৮-১৯ সালে আবাদ হয়েছিলো ১৫ হাজার ৯শ ৯৮ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিলো ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ১ মেট্রিকটন।

২০০৮-০৯ সালে সবজি আবাদ হয়েছিলো ৮ হাজার ৮শ ৭৫ হেক্টর। উৎপাদন ছিলো ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ১শ ৬৮ মেট্রিকটন। যা ২০১৬-১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে আবাদ হয় ৯ হাজার ৩শ ৮৫ হেক্টর। ফলন হয় ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫শ ২৫ মেট্রিকটন। যা শতকরা ৩৬% বেশি। ২০১৮-১৯ সালে আবাদ হয়েছিলো ৮ হাজার ৩শ হেক্টর, উৎপাদন হয়েছিলো ২ লক্ষ ৪ হাজার মেট্রিকটন।  ২০০৮-০৯ সালে পাটের আবাদ হয়েছিলো ২৫ হাজার ২শ ৬০ হেক্টরপ্রতি ফলন ছিলো ১১ দশমিক ৫০ মেট্রিকটন। যা ২০১৬-১৭ সালে বৃদ্ধি পেয়ে আবাদ হয় ৪২ হাজার ৩শ ৮০ হেক্টর। হেক্টর প্রতি ফলন হয় ১২ মেট্রিকটন। যা শতকরা ১২% বেশি।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ রঞ্জন কুমার জানান, কুষ্টিয়ার মাটি কৃষি কাজের জন্য উপযোগী। এছাড়া বর্তমানে নতুন নতুন ফসলের জাত, বিভিন্ন সময়ে সরকারী দেওয়া প্রনোদনা, ফসল উৎপাদনে বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উদপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া কৃষি পরামর্শের জন্য আমরা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকের দোড় গোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। এছাড়া বর্তমানে কৃষি বান্ধব সরকারের নীতিমালাও বড় ধরনের অগ্রনী ভূমিকা পাচ্ছে। বর্তমানে প্রনোদনার মাধ্যমে কৃষক বিনামূল্যে সার, বীজ, পাচ্ছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত শস্য বাজারে বিক্রি করতে পাচ্ছে। তাই তারা ফসল উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এছাড়া আমরা জেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ, নিরাপদ উপায়ে ফসল উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। আইপিএম কৃষক মাঠ স্কুল, মাঠ দিবস, কৃষক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা, সহজ কৃষি উপকরণ প্রাপ্তির কারনেই উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামীতেও এ জেলায় সকল ধরনের কৃষি পন্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।

 

 

 

 

 

আরো খবর...